বিজ্ঞাপন

‎কুড়িগ্রামে তদন্ত ছাড়াই মামলা, প্রতিবেশীর প্রতিবাদকে মব বলছে পুলিশ

‎কুড়িগ্রামে টাকা চুরি, শ্লীলতাহানী ঘটনায় পূর্ব তদন্ত ছাড়াই মামলা রের্কড করে অভিযুক্তদের ধরতে আসে পুলিশ। পরে স্থানীয় সংসদের সহযোগীতা নিয়ে অভিযুক্তদের আটক করা থেকে বিরত রাখে স্থানীয়রা। এই ঘটনাটি ঘিরে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পরের দিন আবার পুলিশই বাদীর সাথে গোপনে দেখা করে। ফেরার পথে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করতে গেলে প্রতিবাদকে মব বলে আখ্যায়িত করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকার মাহাবুবার রহমানের (৪৫) সঙ্গে প্রতিবেশী মোঃ আজিজ সরকারের (৭০) দীর্ঘদিন থেকে জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের কারণে একাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। এ দিকে ১০ মার্চ মাহাবুবার রহমানের ছোট ভাই মোঃ মিজানুর রহমান রংপুর আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আজিজের ভাড়াটিয়া পথ রোধ করে মারপিট গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেন যা বিচারক অবগত আছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে  পূর্বের অভিযোগ তদন্ত ছাড়াই মামলা রেকর্ড করে রাত তিনটায় মাহবুবের বাসায় অভিযান চালায়। এসময় কোন মামলায় বাড়িতে এ অভিযান জানতে চাইলে,পুলিশ কোন সদুত্তর না দিয়ে হুমকি ধামকি করে স্থানীয় সংসদের ফোনে স্থান ত্যাগ করে।পরের দিন আজিজের বাড়ি থেকে পুলিশ বের হয়ে  আসলে স্থানীয়রা রাতের ঘটনার সম্পর্কে আবার প্রশ্ন করেন।এতে পুলিশ বিব্রত হন।সঠিক উত্তর না দিয়ে পুলিশ উর্ধতন কর্মকর্তাকে মব সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
‎স্থানীয়রা জানান, এখানে মব সৃষ্টি করা হয় নাই,কোন মামলায় রাত তিনটায় বাড়ি আসছিল,এতটুকু জানার জন্য পুলিশের সাথে কথা বলা হয়েছে। ভালো করে তদন্ত করলে সত্যিটা বের হবে।

‎জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাহাবুবার রহমান মোবাইল ফোনে তাঁর বাড়িতে পুলিশ আসার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। আমরা কারও বাড়িতে আক্রমণ করিনি। পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই মিথ্যা মামলা নিয়েছে। পরপর দু’বার পুলিশ এসেছিল। পুলিশ মামলার কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। তারা আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার তথ্যর ব্যাপারে থানায় ডাকে।’ পুলিশকে অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলা মিথ্যা হওয়ায় প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেছে।’

‎এ বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, ‘মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলায় তাঁর পুত্রবধূ ১১ মার্চ থানায় অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রোববার থানায় মামলা হয়। পরবর্তীকালে পুলিশ অভিযানে গেলে আসামিরা নারী ও ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে এলাকায় মব সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। পরে আমি ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুনরায় মব সৃষ্টি করে আমাকেও অবরুদ্ধ করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মারা গেল গলাকাটা অবস্থায় জঙ্গলে হাঁটতে থাকা সেই শিশুটি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন