যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজ ছাড়া অন্য দেশের জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। যুদ্ধের মধ্যে এটি বন্ধের হুমকি দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।
গত ২ মার্চ ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ঘোষণা দেয়, হরমুজ প্রণালি ‘বন্ধ’ করে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো জাহাজ জোর করে পার হওয়ার চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
যুদ্ধ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে এক ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল প্রায় ৬৫ মার্কিন ডলার। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ১০৫ ডলারেরও বেশি হয়েছে।
পাকিস্তানের পতাকাবাহী ‘করাচি’ নামের একটি আফ্রাম্যাক্স তেলবাহী জাহাজ গত রোববার (১৫ মার্চ) প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।
ভারতকেও ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতালি। তার মতে, কয়েকটি ভারতীয় জাহাজকে প্রণালি দিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে।
ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানান, তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস বহনকারী দুটি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে প্রণালি পার হয়ে ভারতের দিকে রওয়ানা দিয়েছে।
তুরস্কের মালিকানাধীন একটি জাহাজও তেহরানের অনুমতি নিয়ে প্রণালি অতিক্রম করেছে। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী আব্দুলকাদির উরালোগলু জানান, ইরানের একটি বন্দরে আগে নোঙর করা জাহাজটিকে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়।
চীন বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে, যাতে তাদের তেলবাহী ও কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বহনকারী জাহাজগুলো নিরাপদে প্রণালি পার হতে পারে। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪৫ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে আসে।
ফ্রান্স এবং ইতালি তাদের জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
পড়ুন : যুদ্ধের ১৬তম দিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ছাড়া সবার জন্য উন্মুক্ত হরমুজ


