রোজার বিকেলের নরম আলো ধীরে ধীরে সন্ধ্যার আবহে মিশে যাচ্ছিল। সেই মুহূর্তে আখাউড়ার এক প্রান্তে যেন তৈরি হয়েছিল সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ছবি—সাংবাদিকদের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল, যা পরিণত হয় এক অনন্য মিলনমেলায়।
সোমবার গ্র্যান্ড সুলতান চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আখাউড়া প্রেস ক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি ও টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে একসঙ্গে ইফতার করেন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সম্ভাব্য মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।
রাজনীতির ভিন্ন ভিন্ন ধারার নেতারাও এ আয়োজনে মিলিত হন একই টেবিলে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। হেফাজতে ইসলামসহ নানা সংগঠনের প্রতিনিধিরাও যোগ দেন এ আয়োজনে।
ইফতারের আগে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে আখাউড়াকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, ভিন্ন মত থাকলেও সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি এলাকার উন্নয়ন সম্ভব।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মানিক মিয়া। সঞ্চালনা করেন আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ জলিল।
সভাপতির বক্তব্যে মো. মানিক মিয়া উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
রোজার এই আয়োজনে কেবল ইফতার নয়, ছিল একসঙ্গে বসার, কথা বলার এবং ভিন্নতার ভেতর ঐক্যের সেতুবন্ধ গড়ার এক নিঃশব্দ অঙ্গীকার। আখাউড়ার মানুষ যেন সেদিন দেখল—সম্ভাবনার পথ তৈরি হয় মিলনের মধ্য দিয়েই।
পড়ুন:ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে একই পরিবারের ৩ জন নিহত
দেখুন:প্রতারণার শিকার হয়ে নিজেই শুরু করেন প্রতারণা
ইমি/


