ঈদ এলেই বাড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, আর সেই আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ নতুন টাকার সালামি। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে খুলনা নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় গড়ে উঠেছে নতুন টাকার অস্থায়ী বাজার।
ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছেন বিক্রেতারা। প্রায় ১০ থেকে ১২ জন ব্যবসায়ী ছোট ছোট টেবিল সাজিয়ে বসেছেন। তাদের টেবিলে সারি সারি সাজানো রয়েছে ১০, ২০, ৫০, ১০০ ও ৫০০ টাকার নতুন নোটের বান্ডিল। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে কেউ কেউ এসব নোট ফুলের তোড়ার মতো করে সাজিয়ে রাখছেন, যা দূর থেকেই নজর কাড়ছে।
তবে এই নতুন নোট সংগ্রহ করতে গিয়ে ক্রেতাদের গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। বিশেষ করে ৫ টাকা থেকে ৫০০ টাকার বান্ডিলে ঈদের মৌসুমে আড়াইশ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নতুন টাকা কিনতে আসা সরকারি চাকরিজীবী মোজাহিদুর রহমান আসিফ বলেন, ঈদে শিশুদের খুশি দিতে নতুন টাকা নেওয়া হয়। তবে দুই বান্ডিল ১০ টাকার নোট কিনতে তাকে অতিরিক্ত ৭০০ টাকা দিতে হয়েছে।
একইভাবে বাগেরহাটের শরণখোলা থেকে আসা শরীফুল ইসলাম সাব্বির বলেন, ‘বাচ্চাদের জন্য নতুন টাকা কিনতে এসে বাড়তি টাকা গুণতে হয়েছে। সাড়ে তিন হাজার টাকার নোট নিতে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, এভাবে বাড়তি দাম নেওয়া অন্যায় হলেও দেখার কেউ নেই।
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, তারা নিজেরাও বেশি দামে ব্যাংক থেকে নতুন নোট সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস জানান, ‘বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে বেশি দামে নতুন টাকা কিনে আনতে হয়। এক হাজার টাকার নোটেই আমাদের ২০০ টাকা বেশি দিতে হয়। তাই বিক্রির সময় কিছুটা বেশি নিতে হয়।’
ঈদ সামনে রেখে নতুন টাকার এই বেচাকেনা নগরীতে উৎসবের আমেজ তৈরি করলেও অতিরিক্ত দামের বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ।
পড়ুন:ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে একই পরিবারের ৩ জন নিহত
দেখুন:প্রতারণার শিকার হয়ে নিজেই শুরু করেন প্রতারণা
ইমি/


