উয়েফা চ্যাম্পিয়ন লীগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে আজ নির্ধারিত হবে চার কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট। চার ম্যাচের এই রাতে ইউরোপজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে সিটি-মাদ্রিদ মহারণ, যেখানে প্রথম লেগে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
রিয়াল তার ঘরের মাথের প্রথম লেগে ৩-০ গোলের জয় তুলে নেওয়ায় ইতিহাদে নিজেদের ঘরের মাঠেও আজ কঠিন সমীকরণের সামনে পড়েছে গার্দিওলার শীর্ষরা। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে গার্দিওলার দলকে কমপক্ষে চার গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে সিটি যদি তিন গোলের লিড নেয়, তাহলে ম্যাচ যাবে অতিরিক্ত সময়ে; সেখানেও ব্যবধান একই থাকলে নিষ্পত্তি হবে টাইব্রেকারে। ইউরোপীয় নকআউট ইতিহাস অবশ্য রিয়ালের পক্ষেই কথা বলছে, কারণ প্রথম লেগে তিন গোলের জয় পাওয়ার পর তারা কখনো বিদায় নেয়নি।
লন্ডনে আরেকটি বড় পরীক্ষার মুখে চেলসি। প্রথম লেগে ৫-২ ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় লুই এনরিক বাহিনীকে ঘরের মাঠে আতিথ্য দিবে চেলসি। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে অতীত পরিসংখ্যান কিছুটা আশা জাগালেও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির আক্রমণভাগের ধার তাদের স্পষ্ট ফেবারিট করে রেখেছে। তবে ফরাসি ক্লাবগুলোর বিপক্ষে ঘরের মাঠে চেলসির সাম্প্রতিক রেকর্ড বেশ শক্তিশালী, যা ম্যাচটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে।
লিসবনে স্পোর্টিং এর সামনে অপেক্ষা করছে বড় প্রত্যাবর্তনের চ্যালেঞ্জ। নরওয়ের চমক বোদো গ্লিম্পট প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানে জিতে এগিয়ে আছে। ফলে স্পোর্টিংকে সরাসরি শেষ আটে উঠতে হলে অন্তত চার গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। তিন গোলের জয় পেলে ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অতীতে একবার তিন গোলের ঘাটতি পুষিয়ে পরের রাউন্ডে ওঠার স্মৃতি আছে পর্তুগিজ এই দলটার, তাই তারা লড়াই ছাড়ছে না।
অন্যদিকে লন্ডনের আরেক ম্যাচে সমীকরণ সবচেয়ে খোলা আর্সেনাল ও বায়ার্ন লেভারকুজেনের মধ্যে। জার্মানিতে প্রথম লেগ ১-১ ড্র হওয়ায় আজ যে দল জিতবে, তারাই কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে। আবার ড্র হলে ম্যাচ যাবে অতিরিক্ত সময় ও পরে টাইব্রেকারে। ঘরের মাঠে আর্সেনালের সাম্প্রতিক ইউরোপীয় রেকর্ড শক্তিশালী হলেও ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে লেভারকুসেনের অতীত সাফল্য ম্যাচটিকে অনিশ্চয়তায় ভরিয়ে দিয়েছে।
একই রাতে চার ভিন্ন সমীকরণ, চারটি ভিন্ন চাপ—চ্যাম্পিয়নস লিগের এই রাত তাই ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন নাটক উপহার দেওয়ার অপেক্ষায়।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

