বিজ্ঞাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে গোয়ালনগর ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থক রহিম তালুকদার গ্রুপ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থিত কাশেম মিয়া গ্রুপের মধ্যে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ব্যাপী এই সংঘর্ষ হয়। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বপালনকারী এক কর্মকর্তাকে জাল ভোটে প্ররোচনার অভিযোগে মো. জিয়া মিয়াকে সেনাবাহিনী আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দ-বিধি ১৮৬০-এর ১৭১ ধারায় ১০ দিনের কারাদন্ড দেন।

গত তিন দিন আগে জিয়া মিয়া কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন। তার সন্দেহ ছিল, স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান মামুনের পক্ষের শিশু মিয়া সেনাবাহিনীর কাছে তথ্য দিয়ে তাকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করেছিলেন। এই সন্দেহ থেকেই গতকাল সোমবার বিকেলে একা পেয়ে শিশু মিয়াকে মারধর এবং তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এর জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের প্রস্তুতি চলতে থাকে। দুপুর আড়াইটার দিকে কাশেম মিয়া পক্ষ গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে। একইভাবে লালুয়ারটুক জামে মসজিদ থেকেও সংঘর্ষে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পরে লালুয়ারটুক এলাকার একটি ইটভাটা থেকে ট্রাকে করে ইটের খোয়া এনে হামলায় ব্যবহার করা হয়।

একপর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা ও চাতলপাড় ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রহিম তালুকদার ও কাশেম মিয়ার কাছে মোবাইল ফোনে ঘটনার বিষয়ে জানতে একাধিকবার দুজনকে ফোন করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক বলেন, ‘জালভোট নিয়ে সন্দেহ ও ভুল বোঝাবুঝি থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।’

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি। সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বাজারের দোকান দখল নিয়ে সংঘর্ষ: নেত্রকোনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন