ঈদযাত্রায় গত কয়েকদিন ধরেই ট্রেনে করে ঘরে ফিরছেন হাজার হাজার মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় আজও বুধবার (১৮ মার্চ) ভোর থেকে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রাপ্রত্যাশীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে স্টেশনে আসতে শুরু করেন যাত্রীরা। কারও হাতে ভারী ব্যাগ, কেউ ছোট শিশুদের সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ পথের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দিনের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টেশনজুড়ে ঘরমুখো মানুষের চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। অনেক যাত্রী ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে ছাদে উঠে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে স্টেশনজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কমলাপুর এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), পুলিশ, আনসার, গোয়েন্দা সংস্থা এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা গেছে। স্টেশনের প্রবেশপথ ও প্ল্যাটফর্মে তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কমলাপুর স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছয়টি ট্রেন ছেড়ে গেছে এবং সবগুলোই নির্ধারিত সময়েই স্টেশন ত্যাগ করেছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সময়সূচি ঠিক রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত ছাদ বা বাম্পারে যাত্রী উঠতে না দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে আসনসংখ্যার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি যাত্রী উপস্থিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনা করতে হচ্ছে। অধিকাংশ যাত্রী নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের, যারা পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য বাড়ি ফিরছেন।
স্টেশনে ঘুরে দেখা যায়, অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই এসে অপেক্ষা করছেন। কেউ প্ল্যাটফর্মে বসে আছেন, কেউ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। শিশুদের মাঝেও ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দ স্পষ্ট।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং বৈধ টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পড়ুন: সিগারেট থেকে শেবাচিম হাসপাতালে আগুন: স্থানান্তরকালে ২ রোগীর মৃত্যু
আর/


