বিজ্ঞাপন

ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরেই মর্মান্তিক পরিণতি, নদীতে ডুবে প্রাণ গেল ফাতেমার

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল ১০ বছরের ছোট্ট ফাতেমা আক্তার। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিয়েছে গভীর শোকে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার লুনেশ্বর ইউনিয়নের লক্ষিপুর গ্রামে বাড়ির পাশের নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে শিশু ফাতেমার।

নিহত ফাতেমা আক্তার ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং তার বাবা-মা দুজনেই কর্মসূত্রে ঢাকায় বসবাস করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুল পাঠান জানান, ফাতেমার বাবা-মা চাকরির কারণে ঢাকায় থাকেন। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে তারা সপরিবারে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান। দীর্ঘদিনের পর গ্রামে ফিরে আনন্দে মেতে ওঠে ফাতেমা। সকাল ১০টার দিকে সে অন্য আরেকটি শিশুকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশের নদীতে গোসল করতে যায়। গোসলের একপর্যায়ে গভীর পানিতে তলিয়ে যায় ফাতেমা। অনেক চেষ্টা করেও সে আর ভেসে উঠতে পারেনি।

এ সময় তার সঙ্গে থাকা শিশুটি ভয় পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ছুটে আসে এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ছুটে গিয়ে নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু ফাতেমার কোনো সন্ধান না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আটপাড়া ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে আটপাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। আটপাড়া ফায়ার স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মো. আশরাফ আলী জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নদীতে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে একটানা উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। পরে নদী থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করে আটপাড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।”

এ বিষয়ে আটপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, “ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে মরদেহটি বুঝে নেওয়ার পর আমরা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় ফাতেমার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ফাতেমার মৃত্যুতে পুরো লক্ষিপুর গ্রামেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ময়মনসিংহের ত্রিশালে যাকাতের নগদ টাকা বিতরণ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন