রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, “আমি নিজে দুর্নীতি করব না, কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না। আমার কোনো ভুল হলে আপনারা লেখনীর মাধ্যমে গঠনমূলক সমালোচনা করবেন, আমি নিজেকে শুধরে নেব।”
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ইফতারের পর নেত্রকোনার কলমাকান্দা প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘আমরা অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে-সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে কলমাকান্দা প্রেসক্লাব মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সভার শুরুতে প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি’কে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়।
কলমাকান্দা প্রেস ক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল হক পাঠানের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ১নং সহ-সভাপতি মুহাম্মদ এজমল হোসেন পাইলট। এছাড়া কলমাকান্দা উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার পেশাদারিত্বের সাথে সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। সমাজে যেখানে অন্যায়-অনিয়ম হয়, তা তুলে ধরা সাংবাদিকদের নৈতিক দায়িত্ব। আপনারা নির্ভয়ে, স্বাধীনভাবে এবং বস্তুনিষ্ঠতার সাথে আপনাদের কাজ চালিয়ে যাবেন। আমি চাই না আপনারা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে সত্য কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। আপনাদের কলম শক্তিশালী হলে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে।”
কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের নিজস্ব ভবনের অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের চেয়ে কলমাকান্দা প্রেসক্লাব অবকাঠামোগত দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে। উপজেলা প্রশাসন ও এসিল্যান্ডের সাথে কথা বলে খাস বা বেদখল হওয়া কোনো জায়গা লিজের মাধ্যমে উদ্ধার করে প্রেসক্লাবের জন্য একটি স্থায়ী ও আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেখানে লাইব্রেরি এবং সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের জন্য কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হবে।”
সরকারি অনুদান ও ত্রাণের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে তিনি জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, সাংবাদিক এবং সুধীসমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসা অনুদান, ভিজিএফ এর চাল, শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণে আমি চরম স্বচ্ছতা চাই। দুর্গাপুরে আমরা ইতোমধ্যেই ইমাম সমিতি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সমন্বয়ে একটি কোর কমিটি করে এসব বিতরণ করেছি, যেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছিল না। কলমাকান্দাতেও আমি একই ব্যবস্থা চাই।”
ত্রাণ বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “দুস্থ মানুষের হক মেরে খাওয়া চলবে না। রাষ্ট্রের টাকা জনগণের টাকা। এই টাকা বিতরণের দায়ভার আমি একা নেব না। আমি চাই আপনারা সাংবাদিকরা, ইমাম সাহেবরা এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে একটি কমিটি করুন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রকৃত অধিকারীরা যেন সাহায্য পায়, তা আপনাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।”
পরিশেষে তিনি আগামী ৬ এপ্রিল সাংবাদিকদের নিয়ে একটি বিস্তৃত আলোচনা সভার ঘোষণা দেন এবং সমাজ সংস্কারে ‘আমি’ নয়, বরং ‘আমরা’ হয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পড়ুন : সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মেলবন্ধনে নেত্রকোনায় ‘বন্ধন-৯১’ এর ইফতার আয়োজন


