সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে দিনাজপুর সদর উপজেলাসহ জেলার ৬টি উপজেলায় আজ শুক্রবার (২০ মার্চ ২০২৬) ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিদের একটি অংশ।
দিনাজপুর শহরের চারুবাবুর মোড়স্থ পার্টি সেন্টারে, চিরিরবন্দর উপজেলার রাবার ড্যাম এলাকায়, কাহারোল উপজেলা সদরের জয়নন্দ গ্রামে, ১৩ মাইল এলাকায়, বোচাগঞ্জে, বিরল উপজেলার বনগাঁ জামে মসজিদে ও বিরামপুর উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নের আয়ড়া দাখিল মাদরাসা মাঠে ও খয়ের বাড়ি দাখিল মাদরাসা মাঠে আগাম ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।এতে কয়েকশ’ পরিবারের মানুষ ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ ২০২৬) সকাল ৮ টা ১৫ মিনিটে দিনাজপুর শহরের চারুবাবুর মোড়স্থ পার্টি সেন্টারে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন দিনাজপুর শহর ও আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষ। এই জামায়াতে পুরুষ, মহিলা ও শিশুসহ প্রায় ৩০০ জন মুসল্লি অংশগহণ করেন। এই জামায়াতে ইমামতি করেন কাহারোল উপজেলার রসুলপুর দারুল হুদা সালাপিয়ার মাদরাসার ছাত্র হাফেজ মোঃ আবু তাহের।
এছাড়া জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার সাইতারা ইউনিয়নের রাবার ড্যাম, ফতেহজংপুর গ্রামে, কাহারোল উপজেলার জয়নন্দ গ্রামে, ১৩ মাইলে, বিরল উপজেলার পশ্চিম বনগাঁ জামে মসজিদ ও বিরামপুর উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নের আয়ড়া দাখিল মাদরাসা মাঠে ও খয়ের বাড়ি দাখিল মাদরাসা মাঠে প্রায় ২০/২৫টি গ্রামের কয়েক’শ মানুষ আগাম ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন।
দিনাজপুর শহরের চারুবাবুর মোড়স্থ পার্টি সেন্টারে ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে খুৎবায় একই দিন ঈদ ও কুরবানী করার যৌক্তিকতা তুলে ধরে সবাইকে একই দিনে ঈদ ও কুরবানী করার আহবান জানানো হয়। এ সময় পবিত্র কুরআনের আয়াতের আলোকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানানো হয়।
পার্টি সেন্টারে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়কারীদের কয়েকজন মুসল্লি জানান, দিনাজপুরে প্রথমে শুধু চিরিরবন্দর উপজেলায় সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করা হতো। কিন্তু বর্তমানে দিনাজপুর সদর উপজেলাসহ আরো কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আগাম ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।
মোঃ আব্দুল মান্নান নামে একজন মুসল্লি জানান, আমি প্রথমে আগাম ঈদ নামাজ পড়ার বিরোধিতা করেছি। পরে কুরআন ও হাদিস পড়ে যখন জানতে পারলাম যে এটিই সঠিক তখন থেকে আমি এই নামাজের জামাতে শরিক হয়েছি।
মোঃ তমিজ উদ্দীন নামে একজন মুসল্লি জানান, আমি দশ বছর যাবত আগাম ঈদের নামাজ পড়ি। আগামী ঈদের নামাজ খোলা জায়গায় মাইকিং করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে গর্জিয়াভাবে ঈদের নামাজ পড়া হবে।
উল্লেখ্য, দিনাজপুর জেলায় ২০০৭ সাল থেকে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছে মুসলমানদের একটি অংশ। প্রথমে মুসল্লির সংখ্যা কম থাকলেও বর্তমানে ২০২৬ সালে এসে তা বেড়ে প্রায় ৩০০ জনে পৌঁছেছে।
পড়ুন- ঈদযাত্রা: শেষ দিনেও কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষে ভিড়


