নিজেদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গতকাল শনিবারের হুমকির জবাবে পাল্টা এই হুঁশিয়ারি দিল ইরান।
আজ রোববার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেয়।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হলে হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণরূপে’ বন্ধ করে দেওয়া হবে। স্থাপনাগুলো পুনরায় নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত তা বন্ধ থাকবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র আক্রান্ত হলে ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি স্থাপনায় ‘ব্যাপক হামলা’ চালানো হবে। এ ছাড়া এই অঞ্চলের যেসব কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা রয়েছে, সেগুলোকেও ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে।
আইআরজিসি বিবৃতিতে যোগ করে, এই অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ বা ট্যাংকার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি পার হতে পারছে না।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানির দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
বাজার স্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্র নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি ইরানকে বারবার হুমকি দিচ্ছে, যাতে তারা হরমুজে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা তৈরি না করে।
তা ছাড়া প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখতে ন্যাটো মিত্রদের সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে একাধিকবার অনুরোধ করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু অধিকাংশ দেশ বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে প্রস্তুত নয়।
তবে গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ছয়টি দেশ জানিয়েছে, যুদ্ধে প্রায় অচল হয়ে পড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘যথাযথ প্রচেষ্টায়’ তারা যোগ দিতে প্রস্তুত। দেশগুলো হলো যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান। কিন্তু এ পর্যন্ত তারা কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেয়নি।
সূত্র: আল-জাজিরা
পড়ুন : হরমুজে হামলা হলে আঞ্চলিক জ্বালানি-বিদ্যুৎ অবকাঠামো গুড়িয়ে দেবে ইরান


