বিজ্ঞাপন

জ্বালানি তেল সংকট: পেট্রোল পাম্পে এখনো লাইন, সরবরাহ বৃদ্ধির দাবি

মাদারীপুরে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে এখনো জ্বালানি তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তেল সংকট নিয়ে আগের মতো আতঙ্ক না থাকলেও সরবরাহ সীমিত থাকায় মাদারীপুরবাসীর ভোগান্তি পুরোপুরি কাটেনি। দ্রুত তেল সরবরাহ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা ও তেলের পাম্পের মালিকরা। তবে এখনো পাম্প মালিকরা ২০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছেন না মোটরসাইকেল চালকদের। তবে বাস চালকদের চাহিদা মতো তেল দিতে পারছে না ফিলিং স্টেশনের মালিকরা।

বিজ্ঞাপন


এদিকে সরকারের তরফ থেকে রেশনিং পদ্ধতি তুলে দিলেও প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল না পাওয়ার অভিযোগ না থাকলেও দ্রুত তেল সরবরাহ সচল রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পেট্রোল পাম্প মালিকরা বলছেন, জ্বালানি তেল নেয়ার জন্য গত ৫ মার্চ থেকে মাদারীপুরে ট্যাংক লড়ী পাঠিয়েও চাহিদা মাফিক তেল মিলছে না। আর যানবাহন মালিকরা আতঙ্কে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বেশি পরিমাণ জ্বালানি তেল সংগ্রহ করার কারণে পাম্পগুলো তেলশূন্য হয়ে পড়েছে।


সোমবার  (২৩ মার্চ) সকাল থেকে মাদারীপুর জেলা শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি নেয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও দুপুরের পর ইউসুফ  ফিলিং স্টেশন,সার্বিক ফিলিং স্টেশন ও আড়িয়ালখা ফিলিং স্টেশন   পাম্পে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।এদিকে ইউসুফ ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ করে থাকলেও বাকি দুইটাও চোখে পড়ার মতো না। শুধু সামান্য পরিমাণে ডিজেল থাকার কারণে পাম্পগুলো একেবারে বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি।  পাম্প বন্ধ ছাড়া কোনো উপায় দেখছেন না পাম্প মালিকরা।
এদিকে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান মিজানুর রহমান তিনি আক্ষেপ করে বলেন, শুধু মোটরসাইকেল আলাদা করে ২০০ টাকার তেল দেয় এখন আমি ভাড়া নিয়ে যাব প্রায় ১৫০-২০০ কিলোমিটার দূরে তাইলে ২০০ টাকার তেলে কি আমার যাওয়া আসা হবে তালতো আমার মোটরসাইকেল বন্ধ করে বাসায় বসে না খেয়ে থাকতে হবে ছেলে সন্তান নিয়ে তাই সরকারের কাছে দাবি তেল সরবরাহ জানি বাড়ায়।
এদিকে বাস চালকদের অভিযোগ তাদেরকেও চাহিদা মত দেওয়া হচ্ছে না ডিজেল। বাস ঠিকমতো চালাতে পারছে না তারা।তাই দ্রুত তেলের সরবরাহ বাড়ালে পরিবহন চললে ছেলে সন্তান নিয়ে খেয়ে থাকতে পারবে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার শহীদের সৈয়াদারবালী এলাকার আজিজুর রহমান বলেন, রোববার থেকে রেশনিং করে মোটরসাইকেলে দুই লিটার করে পেট্রোল বা অকটেন দেয়ার নির্দেশনা ছিল। সোমবার কিন্তু দুপুরে পাম্পে গিয়ে দেখি তেল শেষ। আমার মোটরসাইকেলে কোনো তেল নেই। তেল নিতে না পারলে আগামীকাল থেকে মোটরসাইকেল বাড়িতে রেখে আসতে হবে।


সদর উপজেলার বাংলাবাজার গ্রামের কৃষক আলী আহমেদ খান বলেন, চলতি মৌসুমে আমার ক্ষেতে সেচ দেয়ার এখনই সময়। ভুট্টা, বোরো, মরিচ ক্ষেতে এখন সেচ দিতে না পারলে ফলনে বিপর্যয় দেখা দেবে। শ্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে পানি দেব, কিন্তু ডিজেল পাচ্ছি না। আগে গ্রামের বাজার থেকে সামান্য বেশি দামে ডিজেল নিয়ে সেচকার্য চালাতে পারতাম। এখন পাম্পেও তেল পাচ্ছি না।


মাদারীপুর ইউসুফ ফিলিং স্টেশন পাম্পের মালিক মোঃ ইউসুফ আলী মাতুব্বর বলেন, আগের চেয়ে তেলের সরবরাহ একেবারে কম তাই আমরা যানবাহন চালকদের চাহিদা মত জ্বালানি তেল দিতে পারছি না। সরবরাহ ভালো থাকলে আমরাও তাদের চাহিদা মতো দিতে পারব। তাই সরকারের কাছে আবেদন জানায় তেলের সরবরাহারা বাড়ায়। যদি স্বরবর্ণ না বাড়ায় তাহলে আমাদেরও তেলের পাম্প বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, গত ৫ মার্চ থেকে পার্বতীপুরে লড়ী অপেক্ষা করছে। কিন্তু তেল পাচ্ছি না। সরবরাহ কম পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে তারা এক চেম্বার বা এক লড়ীর চার ভাগের এক ভাগ তেল দিতে চাইছে। কিন্তু এত দূর থেকে ফুল লড়ী তেল আনতে না পারলে আমাদের পুরোটাই লোকসান হবে।


উল্লেখ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শুক্র ও শনিবার বন্ধের দিনেও খোলা রাখা হয়েছে তেলের ডিপো। এরআগে শনিবার দেশে জ্বালানি তেল কেনার সীমা রোববার থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমায় দেশেও পেট্রোল-অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। এর জেরে ৬ মার্চ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রির জন্য সীমা বেঁধে দেয় সরকার।

পড়ুন- ঈদের ছুটি শেষ হচ্ছে আজ: মঙ্গলবার খুলছে অফিস

দেখুন- রেলক্রসিং স্বয়ংক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের: প্রতিমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন