বিজ্ঞাপন

মেহজাবীন-প্রীতমের ‘ক্যাকটাস’ জমল কি

গত কয়েক বছরে ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘দাগি’র মতো ড্রামা সিরিজ-সিনেমা বানিয়েছেন শিহাব শাহীন, আবার ‘সিন্ডিকেট’, ‘গোলাম মামুন’, মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’-এর মতো থ্রিলারও বানিয়েছেন। তবে রোমান্টিক ড্রামার জন্য আলাদা পরিচিতি আছে নির্মাতার। তাঁর আগের কাজ ‘তোমার জন্য মন’; কিছু দুর্বলতা থাকলেও ওয়েব ফিল্মটি দেখা যায় কেবল ড্রামা নির্মাণে শিহাব শাহীনের দক্ষতার কারণেই। ঈদে চরকিতে আসা তাঁর নতুন সিরিজ ‘ক্যাকটাস’-এ তিনি ড্রামা আর রোমাঞ্চের সমন্বয় করার চেষ্টা করেছেন। শেষ পর্যন্ত রোমান্টিক ড্রামা হিসেবে সিরিজটি চলনসই হলেও স্পাই সিরিজ হিসেবে আরও ভালো হতে পারত।

বিজ্ঞাপন

একনজরে
সিরিজ: ‘ক্যাকটাস’
ধরন: অ্যাকশন-থ্রিলার
পরিচালনা: শিহাব শাহীন
অভিনয়ে: মেহজাবীন চৌধুরী, প্রীতম হাসান, নাজিবা বাশার, সালাহউদ্দিন লাভলু, শাহাদাত হোসেন, আরিফিন জিলানী
স্ট্রিমিং: চরকি
পর্বসংখ্যা: ৬
দৈর্ঘ্য: ২৯-৩৩ মিনিট

গল্প শুরু হয় গ্রে হ্যাকার মানসিভকে (প্রীতম হাসান) ঘিরে। এক ঘটনায় জেলে যেতে হয় তাকে। তবে জেল থেকে মুক্তির অদ্ভুত এক প্রস্তাব পায় সে—রাষ্ট্রের জন্য গোপন একটা কাজ করে দিতে হবে। চট্টগ্রামে আসা এক কনটেইনার না খুলে নির্দেশমতো জায়গায় পৌঁছে দিতে হবে। মানসিভ কি সেটা পারবে? এর মধ্যে দৃশ্যপটে হাজির হয় রহস্যময় এক তরুণী অনুরা (মেহজাবীন চৌধুরী)। কে সে? মানসিভের সঙ্গে কীভাবে তাঁর জীবন জুড়ে গেল, সেটাই উঠে এসেছে ছয় পর্বের সিরিজটিতে।

দেশের অনেক কাজেই রাজনীতি আসে পরোক্ষভাবে, কিন্তু ‘ক্যাকটাস’ সরাসরি রাজনৈতিক। জুলাই অভ্যুত্থান সিরিজটিতে জুড়ে আছে ভালোভাবেই এবং সেটা গল্পের সঙ্গে দারুণভাবে খাপ খাইয়েছেন নির্মাতা। হঠাৎ সরকার পতন, পতিত সরকারের প্রধানের পালিয়ে যাওয়ার ফুটেজ, মন্ত্রীদের বিদেশে চলে যাওয়া থেকে শুরু করে আন্দোলনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত শূন্য ব্যান্ডের ‘শোনো মহাজন’ গানের উপস্থিতি মিলিয়ে সিরিজটির শুরুটা ছিল রোমাঞ্চ–জাগানিয়া। সঙ্গে ছিল দারুণ অভিনয়। একই নির্মাতার ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’য় প্রীতম হাসানের ‘পাশের বাড়ির ছেলে’র ইমেজের ছাপ আছে এখানেও, অনায়াস ভঙ্গিতে নিজের চরিত্রে সেটা ফুটিয়ে তুলেছেন এই গায়ক-অভিনেতা।

ঘর-সংসার ভুলে নিজের জগতে ডুবে থাকা এই সময়ের অনেক তরুণের প্রতিনিধি যেন তিনি। মানসিভ চরিত্রের আবেগ ভালোভাবেই তুলে ধরেছেন প্রীতম। চমকে দিয়েছেন মেহজাবীন। একসময় টিভি নাটকে রোমান্টিক চরিত্রের জন্য পরিচিত এই অভিনেত্রী বড় পর্দায় ‘প্রিয় মালতী’ আর ‘সাবা’য় নিজেকে ভেঙেছেন। এই সিরিজে তিনি পুরোপুরি অ্যাকশনের মেজাজে। হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাট, গুলি চালানো থেকে অ্যাকশনে অনুরা চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন তিনি। অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর কোরিওগ্রাফিও ভালো।

‘ক্যাকটাস’–এর দৃশ্য। চরকির সৌজন্যে

এই দুজন ছাড়া সিরিজটিতে প্রবলভাবে উপস্থিত মানসিভের পরিবার এবং পারিবারিক ড্রামার অংশটাও দারুণভাবে কাজ করে। পার্শ্ব অভিনেতার অভিনয় ছাড়াও টেনশন, খুনসুটি মিলিয়ে উপভোগ্য পারিবারিক মুহূর্ত তৈরি করতে পেরেছেন নির্মাতা।
অভিনয়ের দিক থেকে অবশ্য সিরিজটির সবচেয়ে বড় চমক আরিফিন জিলানী। স্নাইপার হাতে গুপ্তঘাতকের চরিত্রে তাঁকে শুরুতে চেনাই যায়নি! ‘উৎসব’, ‘তোমার জন্য মন’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর পর আরেকটি বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজেকে চেনালেন তিনি। তাঁর ক্রূর হাসি, অভিব্যক্তি গুপ্তঘাতকের চরিত্রে মানিয়ে গেছে।

‘ক্যাকটাস’-এ পুরোনো গানও দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন নির্মাতা। ওয়ারফেজ আর মাইলসের গানগুলো শুনতে শুনতে আর পর্দায় মেহজাবীন-প্রীতমের রসায়ন দেখতে দেখতে আপনি নস্টালজিক হয়ে পড়বেন। কিন্তু মুশকিল হলো, ‘ক্যাকটাস’ তো অ্যাকশন-থ্রিলার হিসেবেই প্রচার করেছেন নির্মাতা, তাই রোমান্টিক ড্রামা হিসেবে উতরে গেলেও রোমাঞ্চের মেজাজ শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা যায়নি। প্রথম দুই পর্বের পর উত্তেজনা কমতে থাকে, সিরিজটি রূপ নেয় মানসিভ আর অনুরার প্রেমের গল্পে।

সিরিজের যে মূল রহস্যের জায়গা, সেটাও সাধারণ দর্শকের জন্য বোঝা কঠিন। এটি নির্মাতার স্পাই ইউনিভার্সের অংশ, ট্রেলারে মাইশেলফ অ্যালেন স্বপনের কথা শুনে অনেকেই নড়েচড়ে বসেছিলেন। কিন্তু এই এক সংলাপ আর আরেকটি কমন চরিত্র ছাড়া ‘অ্যালেন স্বপন’-এর সঙ্গে ‘ক্যাকটাস’-এর যোগ খুবই দুর্বল; এটি আলাদা সিরিজ হলে কী ক্ষতি ছিল! শুরুতে স্পাই থ্রিলার, পরে রোমান্টিক-ড্রামা থেকে শেষ পর্বে আবার গতি পায় ‘ক্যাকটাস’।

তখন একটার পর একটা ঘটনা ঘটতে থাকে, শেষ পর্বে কি একটু বেশিই তাড়াহুড়া হয়ে গেল! শেষ পর্বে একটা ‘ভৌগোলিক বিভ্রাট’ও আছে। এ পর্বের প্রেক্ষাপট তেঁতুলিয়া সীমান্ত, কিন্তু যেখানে শুটিং হয়েছে, সেটা একেবারেই তেঁতুলিয়ার মতো নয়। মহানন্দা নদী আর ধূসর ল্যান্ডস্কেপের বদলে সেখানে দেখা গেছে পাহাড়ি জঙ্গল আর রেলপথ! কামরুল ইসলামের চিত্রগ্রহণ চলনসই হলেও সিরিজটিতে খৈয়াম সানুর আবহসংগীত গড়পড়তা।

গত এক বছরে বড় তারকাদের নিয়ে বড় আয়োজনে দেশি সিরিজ সেভাবে আসেনি, তাই কিছু দুর্বলতা থাকলেও মেহজাবীন-প্রীতমের অভিনয় আর দারুণ কিছু মুহূর্তের জন্য ‘ক্যাকটাস’ একবার দেখাই যায়।

পড়ুন:পল্লবীতে কিবরিয়া হত্যা: রিভলবারসহ ২ শুটার গ্রেফতার

দেখুন:এবার সমুদ্র তলদেশ থেকে ভেসে উঠছে ইরানের ভয়ংকর মি/সা/ই/ল সিটি?

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন