বিজ্ঞাপন

বিশ্বজুড়ে এলএনজি সংকট তীব্র, বাংলাদেশের অবস্থা কী?

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় এক-চতুর্থাংশই প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে আসে, ফলে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বজুড়ে এলএনজি সংকটে বাংলাদেশের অবস্থা জেনে নেওয়া যাক : চট্টগ্রাম বন্দরে এক সপ্তাহের মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে তিনটি ট্যাংকার আসছে। এর মধ্যে একটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে, বাকি দুটি আগামী বুধবারের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তিনটি ট্যাংকারে মোট প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার টন এলএনজি রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি নিয়ে ‘এইচএল পাফিন’ ট্যাংকার বৃহস্পতিবার কুতুবদিয়া উপকূলে পৌঁছেছে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার আগামী বুধবারের মধ্যে বন্দরে পৌঁছাবে।

বাংলাদেশে এলএনজি আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ আসে কাতার থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এই সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কাতার থেকে এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে দুটি এলএনজি ট্যাংকার আসার কথা থাকলেও তা আসেনি। এর মধ্যে একটি ট্যাংকার রাস লাফান বন্দর থেকে এলএনজিবোঝাই অবস্থায় এখনো আটকে রয়েছে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এ মাসে এখন পর্যন্ত মোট সাতটি এলএনজিবাহী ট্যাংকার দেশে এসেছে। সাধারণ সময়ে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১১টি ট্যাংকার আসে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা এলএনজি আমদানি করে থাকে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি সত্ত্বেও আপাতত বড় ধরনের সরবরাহ সংকট হবে না বলে তারা মনে করছেন।

এলএনজি হলো প্রাকৃতিক গ্যাসকে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় (প্রায় -১৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ঠান্ডা করে তরলে রূপান্তর করা জ্বালানি। এতে গ্যাসের আয়তন প্রায় ৬০০ গুণ কমে যায়, ফলে এটি সহজে সংরক্ষণ ও পরিবহন করা সম্ভব হয়। এই তরল গ্যাস পরে গন্তব্যস্থলে গিয়ে আবার গ্যাসে রূপান্তর করে ব্যবহার করা হয়।

এলএনজি বিশ্বজুড়ে বহুমুখী কাজে ব্যবহৃত হয়—ঘরোয়া রান্না ও গরমের কাজে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে, শিল্প খাতে, বিশেষ করে সার ও রাসায়নিক উৎপাদনে ও জাহাজ ও ভারী যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে।

বিশেষ করে সার উৎপাদনে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হলে খাদ্য উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ এলএনজি পরিবহন হয়। এই পথ অচল হয়ে পড়ায় বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে—জ্বালানির দাম আরও বাড়বে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেবে, শিল্প ও কৃষি খাতেও চাপ বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

পড়ুন : জ্বালানি তেলে প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন