বিজ্ঞাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নতুন ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের তিন লাখ পীর এলাকায় নতুন একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), যা বাস্তবায়িত হলে জেলার শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে বেপজার নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. অনভীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পত্রে উল্লেখ করা হয়, কসবার তিন লাখ পীর এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত হয়েছে এবং বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতা কবীর আহমেদ ভূঞা এ বিষয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন।

আবেদনে তিনি তিন লাখ পীর এলাকার ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এলাকাটি ইতোমধ্যে একটি সম্ভাবনাময় গ্রোথ সেন্টার হিসেবে গড়ে উঠেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থান, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন ও স্থলবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এটি শিল্প স্থাপনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে পর্যাপ্ত খাস জমি ও অধিগ্রহণযোগ্য জমি রয়েছে। ইপিজেড স্থাপন করা হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং স্থানীয় যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

কবীর আহমেদ ভূঞা আশা প্রকাশ করে বলেন, “এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কসবা-আখাউড়া অঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে। প্রবাসফেরত দক্ষ জনশক্তির জন্যও এটি একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তিন লাখ পীর এলাকায় ইপিজেড স্থাপিত হলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বেপজা সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবটি গ্রহণের পর এখন প্রাথমিক যাচাই-বাছাইসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে ভবিষ্যতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কবীর আহমেদ ভূঁইয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ ক্রমেই একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থান, বাজার সুবিধা এবং কৌশলগত সংযোগ—সব মিলিয়ে আজ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে একজন বিনিয়োগকারী কার্যত অর্ধ পৃথিবীর বাজারে প্রবেশাধিকার লাভ করেন।

বাংলাদেশের তিনদিক জুড়ে রয়েছে ভারতের বিশাল বাজার; অপরদিকে মিয়ানমার পথ ধরে চীন ও পূর্ব এশিয়ার সম্ভাবনার দরজা উন্মুক্ত। রয়েছে Chittagong Port—যা দেশের বাণিজ্য ও রপ্তানি সম্ভাবনার প্রাণকেন্দ্র। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান গন্তব্যগুলো মাত্র ৫ ঘণ্টার উড়ান দূরত্বে, ফলে বৈশ্বিক লজিস্টিক চেইনে বাংলাদেশ একটি সুবিধাজনক হাবে রূপ নিচ্ছে।

এই বৃহত্তর সম্ভাবনার ভেতর ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিঃসন্দেহে সবচেয়ে উদীয়মান এবং আকর্ষণীয় অঞ্চলগুলোর একটি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সিলেট, ঢাকা এবং চট্টগ্রামের দূরত্ব মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা; আর ভারতের আগরতলা মাত্র ৪০ মিনিটের পথ। এর ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রকৃত অর্থেই একটি আঞ্চলিক বাণিজ্য জংশন হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

এ অঞ্চলে বিদ্যমান জ্বালানি অবকাঠামো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রয়েছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্রসমূহের একটি—Titas Gas Field—যা দেশের মোট গ্যাসচাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পূরণ করে। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা অঞ্চলে অবস্থিত সালদা, তারাপুর ও কাশীরামপুর গ্যাসক্ষেত্র, এবং নিকটবর্তী Ashuganj Power Station—সমগ্র এলাকাটিকে একটি শক্তিশালী জ্বালানি-সমৃদ্ধ সম্ভাব্য শিল্পাঞ্চলে পরিণত করেছে।

প্রস্তাবিত ইপিজেড এলাকার পাশ দিয়ে তিতাস নদীর একটি খাল প্রবাহিত হওয়ায় পানি ব্যবস্থাপনা, নিষ্কাশন বা বর্জ্য পরিবহন—সবকিছুই অত্যন্ত সুবিধাজনক হবে। রয়েছে পর্যাপ্ত জমি, পরিবহন সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অনুকূল পরিবেশ। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি আধুনিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করলে জ্বালানি, পানি, লজিস্টিক, শ্রমশক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ—সবদিক থেকেই এটি একটি ‘প্রমিজিং ইনভেস্টমেন্ট জোন’ হবে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি—এই অঞ্চলে ইপিজেড প্রতিষ্ঠা পেলে আমি বিদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিনিয়োগকারীকে বাংলাদেশে নিয়ে আসতে সক্ষম হবো। এতে শুধু কর্মসংস্থানই নয়, বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।

এই সম্ভাবনাময় উদ্যোগের অংশীদার হতে পারলে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করবো। একই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে—উনার যুগোপযোগী দৃষ্টিভঙ্গি ও সাহসী সিদ্ধান্তের কারণে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আজ আরও উন্মুক্ত ও প্রতিশ্রুতিশীল হয়ে উঠেছে।

পড়ুন : অবৈধভাবে তেল মজুত সীতাকুণ্ডে ভাটিয়ারী ফিলিং স্টেশনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন