বিজ্ঞাপন

গোপালগঞ্জে শীর্ষ সন্ত্রাসী রাসেলসহ তিনজনের ৫ বছরের কারাদণ্ড, এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার আলোচিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ মেহেদী হাসান মিয়া ওরফে রাসেল (৩৪) সহ তার দুই সহযোগীকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৪ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার ( ২৯ মার্চ) গোপালগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ ও সহকারী দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক ইয়াসিন আরাফাত এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুইজন হলেন এসএম সাজিদ ইয়াসিন ওরফে ইয়াসিন শেখ এবং আব্দুল্লাহ শেখ ওরফে আব্দুল্লাহ।

মেহেদী হাসান রাসেল গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার খাগড়াবাড়িয়া গ্রামের মৃত বালা মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে কাশিয়ানীসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং বেশ কয়েকটি মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি।

এছাড়াও আশুলিয়া থানার হত্যা মামলা, গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে কাশিয়ানী উপজেলায় অবস্থিত এম এস মেটাল নামক ফ্যাক্টরীর নির্বাহী পরিচালক আজিজুল ইসলাম মিয়ার কাছে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন আসামীগণ। চাঁদা না দিলে ফ্যাক্টরির কাজ করতে দিবে না বলেও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে ফ্যাক্টরির নির্বাহী পরিচালক আজিজুল ইসলাম মিয়া বাদী হয়ে একই বছরের ১০ মার্চ কাশিয়ানী থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১১(৩) ২০২৩ এর অধীনে ১৪৩/৪৪৭/৩৮৫/৩৪১/৫০৬ পেনাল কোড ধারায় অভিযোগ আনা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম এ আলম সেলিম ও অ্যাডভোকেট ফয়সাল সিদ্দিকী। রায় ঘোষণার পর কাশিয়ানী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। অনেক স্থানে মিষ্টি বিতরণ ও উল্লাস করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

এর আগে আসামি রাসেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হলেও পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাসেল বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, খুন, ডাকাতি ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। শুধু গোপালগঞ্জ নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবেও তারা সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাসেল বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলেন তারা। আদালতের এই রায়ে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

পড়ুন:চুয়াডাঙ্গায় ফুয়েল কার্ডে দেওয়া হবে জ্বালানি তেল

দেখুন:গাজীপুরে জ্বালানি তেল মজুতকারীদের কঠোর হুশিয়ারি দিলেন এমপি রনি |

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন