নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রতারণার মাধ্যমে ঘোড়ার মাংসকে গরুর মাংস বলে বিক্রির ঘটনায় সম্প্রতি জীবিত ১২টি ও জবাই করা ৯ টি ঘোড়া উদ্ধারের প্রভাবে স্থানীয় কসাইদের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না ক্রেতা। এতে মাংস বিক্রেতারা গরু জবাই করেও ঘোড়া জবাই সন্দেহের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় খাবার হোটেলে। জনপ্রিয় গরুর মাংসের কালাভুনা, রেজালা,শিক জাবাব,জালিকাবাব, নেহারী নিয়ে গ্রাহকদের সন্দেহ তৈরী হওয়ায় তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, পূর্বাচলে রয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক খাবার হোটেল। এসব খাবার হোটেলে বিকাল হলেই রাজধানীসহ আশপাশের জেলার বিপুল পরিমাণ দর্শনার্থীরা ভীর করেন। এ সুযোগে অসাদু মাংস বিক্রেতারা গত ১৫ বছর ধরে এসব হোটেলে গরুর মাংস সরবরাহ করে আসছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গত শুক্রবার উপজেলার পূর্বাচল নতুন শহরের ১০ নম্বর সেক্টরের হারারবাড়ী এলাকার একটি প্লট থেকে জীবিত ও জবাই করা ঘোড়া উদ্ধারের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা বুঝতে পারেন এতোদিন যে মাংস খেতেন গরু বলে। এসব মূলত ঘোড়ার মাংস। এমন সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় প্রায় ৩০ টি মাংসের দোকানে কমে গেছে বিক্রি।
পূর্বাচল পুলিশ ফাঁড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ হারুন উর রশিদ জানান, পূর্বাচল ১০ নং সেক্টর হারার বাড়ি এলাকার একটি প্লটে ২২ টি ঘোড়া জবাই করার উদ্দেশ্যে নিয়ে আসে একদল অসাধু ব্যবসায়ী। পরবর্তীতে তারা ৯টি ঘোড়া জবাই করে ফেলেন। শুক্রবার ভোরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশের হট লাইন ৯৯৯তে ফোন দেন। পরে পূর্বাচল পুলিশ ফাঁড়ি ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অভিযান পরিচালন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের আসার টের পেয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা ঘোড়াগুলো রেখে পালিয়ে যায়। এ সময় ১২ টি জীবিত ঘোড়া এবং ৯টি জবাই করা ঘোড়া উদ্ধার করা হয়।
পূর্বাচল নতুন শহরের বাসিন্দা খাবার হোটেল ব্যবসায়ী তাহের ভুইয়া বলেন, আমরা সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছিলাম। কিন্তু একটি অসাধু পক্ষ নির্জন স্থানে রাতের আঁধারে ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস বলে কম দামে উপজেলার বিভিন্ন মাংসের দোকানে বিক্রি করেন। আর ওই মাংস গরুর মাংস হিসেবে মানুষ ক্রয় করে নিয়ে খাচ্ছেন। অভিযোগ তুলছে এসব স্থানীয় হোটেলে দেয়া হয়। যা মূলত সত্য নয়। এ চক্রটি পূর্বাচলের নির্জন প্লট বেছে নিয়েছে। তারা অন্য এলাকায় মাংস দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মিয়া বলেন, গত ১৫ বছর ধরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঘোড়াগুলো রাতের আঁধারে আশপাশের খাবার হোটেলে সরবরাহ করে থাকে। বাজারে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা হওয়ায় মাত্র ২ শ থেকে ৩ শ টাকা কেজিতে ঘোড়ার মাংস বিক্রি করে থাকে। আর তা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে গরুর মাংস বলে বিক্রি করে আসছে। স্থানীয় মাংস বিক্রেতা, কসাইদের একটি অংশ সরাসরি ঘোড়ার মাংস বিক্রিতে জড়িত।
স্থানীয় মাংস বিক্রেতা আবুল হোসেন ও জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘোড়া উদ্ধার হওয়ায় পর থেকে আমাদের জড়ানো হচ্ছে। অথচ গরু প্রকাশ্যে জবাই করি,তারপরও কাস্টমাররা এসে সন্দেহ করে। আমরা চাই ঘোড়াকান্ডে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।
খিলক্ষেত থেকে আসা গৃহবধূ নারগিস আক্তার বলেন, আমরা পুরো পরিবার পূর্বাচলে কোন খাবার হোটেল থেকে রান্না করা গরু বা খাসি খাইনা। সন্দেহ হয়। মাংস বিক্রেতারা প্রতারণা করে থাকে। যদিও সবাই এ কাজে জড়িত নয়।
পড়ুন:দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বালুবোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের,হেলপার নিহত
দেখুন:চা বিক্রি করে সংসার চলে দিনাজপুরের জনপ্রতিনিধির |
ইমি/


