ধানমন্ডি লেককে কোনোভাবেই কমার্শিয়াল এলাকা করা যাবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম।
বুধবার (১ এপ্রিল) ধানমন্ডি লেক পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুস সালাম বলেন, কোনোভাবেই ধানমন্ডি লেককে কমার্শিয়াল এলাকা করা যাবে না। এটা কোনো কমার্শিয়াল এলাকা নয়। ঢাকা শহরে ঘুরে বেড়ানো এবং নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো জায়গার খুব অভাব। আমরা ধানমন্ডি লেককে সংরক্ষণ করতে চাই। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা চাই। যারা ইজারা নিয়েছেন, তাদেরও সহযোগিতা চাই। যারা এ এলাকায় বসবাস করেন, উনাদেরও সহযোগিতা চাই।
প্রশাসক বলেন, আমি এখানে এসে এবং লেকে এতো রেস্টুরেন্ট দেখে শকড হয়ে গেছি। এরকম পরিবেশ দেখবো, সেটা কখনো ভাবিনি। প্রকৃতিকে ধারণ করাই আমাদের আসল কাজ। এখানে মানুষের জন্য আমরা রেস্টুরেন্টসহ অন্যান্য জিনিসগুলোর কিছুটা সুবিধা রাখতে চাই। এখন দেখে মনে হচ্ছে, পুরো জায়গা রেস্টুরেন্টের দখলে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি বলেন, আমরা ভালো একটি পরিবেশ ধানমন্ডি লেকে ফিরিয়ে আনতে চাই। এটা নিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা বসবো। স্থানীয় এবং সিটি কর্পোরেশনের লোকজনদের নিয়ে আমি একটা কমিটি গঠন করে দিবো। ওনারাই পর্যবেক্ষণ করবেন এবং মতামত দিবেন। এবং সেটার ভিত্তিতেই আমরা লেকের রক্ষণাবেক্ষণ শুরু করবো।
তিনি আরও বলেন, লোকাল কমিউনিটির যারা আছে, তাদের যদি এই কাজে ইন্টারেস্ট না থাকে এবং ইনভলভ না হয়, তাহলে এখানের পরিবেশ ভালো রাখা যাবে না। এটা শুধু পুলিশ এবং সিটি কর্পোরেশন দিয়েও হবে না। আমি এক্ষেত্রে স্থানীয়দের সহযোগিতা চাই।
প্রশাসক বলেন, লেকে সকাল-বিকালে অনেকে হাঁটেন। আমরা চাই, এই পরিবেশটা বজায় থাকুক। প্রয়োজন হলে আমরা আরও ভালো করে দেবো। রবীন্দ্র সরোবরে কালচার অনুষ্ঠান হয়। আমরা চাই, সেটা করতে গিয়ে যাতে প্রকৃতির কোনো ক্ষতি না হয়। সে বিষয়টা সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।
সিটি কর্পোরেশনের অভিযান পরিচালনা করা হলে সাময়িক সময়ের জন্য সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও, পরে আবারও আগের মতো হয়ে যায়। ধানমন্ডি লেকের ক্ষেত্রে কতটুকু সাসটেইনেবল হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সবকিছু নির্ভর করে জনগণের উপর। এই এলাকার জনগণ যদি চায়, তাহলে এটি ঠিক থাকবে। ওনাদের সহযোগিতাসহ, তাদের হাতেই লেককে ছেড়ে দিতে চাই এবং ওনারা এটি রক্ষণাবেক্ষণ করবে।
এসময় প্রশাসকের সঙ্গে স্থপতি ইকবাল হাবিবসহ ডিএসিসির কর্মমর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

