গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ সেবা দিতে অনীহা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা গত বছরের ৫ আগস্টের পর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম তদারকিতে উদাসীন থাকায় সাধারণ মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তার অদক্ষতার কারণে স্মার্ট প্রশাসনিক সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার সাধারণ সেবা প্রত্যাশীরা।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে ইউএনওর কাছে গেলে অনেকেই কাক্সিক্ষত সেবা পান না। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগের বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় উপকারভোগীদের। স্মার্ট প্রশাসনিক সেবা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী অভিযোগ করে বলেন, ইউএনও সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা প্রায়ই সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেন না এবং বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য চাইলে সাড়া দেন না। এতে প্রশাসনের কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহে বিঘ্ন ঘটছে।
তারা আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা বাস্তবায়নে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখছেন না।
এদিকে সম্প্রতি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করে সরকার। নির্দেশনায় বলা হয়েছে- সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিপত্র জারি করলেও রোববার (২৯ মার্চ) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে গিয়ে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রেস ক্লাবের সভাপতি শাহ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধা জেলার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা। এমন গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় একজন অসহযোগিতাপূর্ণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থাকা দুঃখজনক। সাধারণ মানুষের ফোন তো তিনি ধরেনই না, এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদের সংরক্ষিত নম্বর থেকেও ফোন ধরেন না। এতে সাধারণ মানুষ সমস্যার সমাধান পাচ্ছে না এবং প্রশাসনের প্রতি বিরূপ ধারণা তৈরি হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচ্চ মহলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি নানা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মন্ত্রিপরিষদ (কেবিনেট) তদন্ত হয়েছে। তাতেও কি তার টনক নড়ছে না ?
সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, তিনি তথ্য তো দেনই না বরং কোনো নিউজের বিষয় নিয়ে বক্তব্য চাইলে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বিরক্তবোধ মনে করে সাংবাদিকদের ফোন নম্বর ব্লাক লিষ্টে রেখে দেন। যা অত্যান্ত দুঃখজনক। এসব নিয়ে উপজেলার সকল গণমাধ্যম কর্মীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানার কাছে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে বাধ্য নন এবং এ বিষয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ভূয়া মৎসজীবি সমিতিরি নামে পুকুর ইজারা দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া ও কাজ শেষ না হতেই গোবিন্দগঞ্জ পৌরশহরে পানি সাপ্লাই কাজে অন্তত ১৪ জন কর্মচারীকে নিয়োগ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে, ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ফেয়ার প্রাইজের ডিলার নিয়োগে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াজেদ আলী বলেন, সংবাদের তথ্যের জন্য তাকে ফোন দিলে তিনি ফোন ধরেন না। ‘জনসেবার জন্য প্রশাসন’ স্লোগানের বাস্তব প্রতিফলন তার কাজে দেখা যায় না। আরেক সাংবাদিক এটিএম সাজ্জাদ হোসেন সাবু বলেন, একটি সংবাদের বক্তব্য নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। এতে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজনে তাকে অসংখ্যবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন না, ফলে সময়মতো সংবাদ পাঠাতে বিঘ্ন ঘটে।
একরামুল হক নামে এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাধারণ মানুষ কোনো সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের কাছে গেলে কাক্সিক্ষত সহযোগিতা পাওয়া যায় না। এতে গোবিন্দগঞ্জ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউএনও কার্যালয়ে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, তিনি গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে বাধ্য নন। সাধারণ মানুষ সেবা না পাওয়া ও নানা অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এসব বিষয়ে তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব দেবেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন- আ.লীগ আমলে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী
দেখুন- দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান যু-দ্ধ শেষ করার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প


