জ্বালানি খরচ কমানো ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আংশিক বাসা থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এতে কর্মব্যবস্থায় পরিবর্তনের পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারে চাপ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। খবর আল জাজিরা
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, সরকার পরিচালিত মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও সরকারি-সম্পৃক্ত কোম্পানির কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক ফ্রম হোমের (ডব্লিউএফএইচ) নতুন নির্দেশনা আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং জ্বালানি সরবরাহের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা।’
তিনি আরও জানান, এই নীতিমালার বিস্তারিত আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পেট্রোনাস-সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। জ্বালানির দাম কম রাখতে মালয়েশিয়া সরকার প্রতি মাসে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, যেসব সরকারি কর্মচারীর অফিসে যেতে ৮ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়, তাদের জন্য সপ্তাহে তিন দিন বাসা থেকে কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সরকারের প্রধান সচিব তান শ্রী শামসুল আজরি আবু বাকার স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় জানানো হয়, এই নীতি কুয়ালালামপুর, পুত্রজায়া, সেলাঙ্গর এবং সব প্রদেশের রাজধানীতে কর্মরতদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
তবে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের কর্মীরা এই সুবিধার বাইরে থাকবেন।
এছাড়া যেসব প্রদেশে সাপ্তাহিক ছুটি রোববার, সেখানে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাসা থেকে কাজ করতে হবে। আর যেসব প্রদেশে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি (যেমন কেদাহ, কেলান্তান ও তেরেঙ্গানু), সেখানে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
ওয়ার্ক ফ্রম হোম তথা ডব্লিউএফএইচ চলাকালে কর্মকর্তাদের অবশ্যই মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা তথ্যব্যবস্থায় (এইচআরএমআইএস) নিবন্ধিত নিজ বাসা থেকেই কাজ করতে হবে।
এছাড়া এই ব্যবস্থা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

