বিজ্ঞাপন

হেলমেট পরে পরীক্ষার হলে জবি শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গণিত বিভাগের একটি ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী হেলমেট ব্যবহার করছেন।

বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেখা যায়, আতঙ্কের মধ্যেই গণিত বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী হেলমেট পরে পরীক্ষার হলে অংশ নিচ্ছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় এমন ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে গণিত বিভাগের একটি সেমিনার কক্ষে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন।


ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক একাডেমিক ভবন দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাঝেমধ্যে ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। এর আগেও গণিত বিভাগের একটি শিক্ষক কক্ষে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল।


শিক্ষার্থীরা জানান, অনেক শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হলেও বিকল্প সংকটের কারণে সেগুলোতেই ক্লাস ও পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। পাশাপাশি কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
গণিত বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, “কখন কার মাথায় পলেস্তারা পড়বে, তা বলা যায় না। তাই বাধ্য হয়েই হেলমেট পরে পরীক্ষা দিতে আসছি।”


আরেক শিক্ষার্থী নয়ন বলেন, “আমার ছোট দুই ভাই আহত হয়েছে। তারপরও প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ ক্লাসরুমে বসে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে বলে আমরা হেলমেট ব্যবহার করছি।”


এদিকে, এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের অবহেলা রয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “বড় ধরনের সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। ফলস সিলিং থাকার কারণে মূল ছাদের ফাটল আগে ধরা পড়েনি। এখন সেগুলো অপসারণ করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ভবনের সংস্কারের নকশা ও ব্যয় হিসাবও প্রস্তুত রয়েছে।”

নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীদের জীবন আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পুরো জবি ক্যাম্পাসে।

পড়ুন- স্বর্ণের দামে ব্যাপক দরপতন, তেলের দাম আকাশচুম্বী

দেখুন- ময়মনসিংহে পাম্পগুলোতে জ্বালানির সংকট, তেল নিতে দীর্ঘ লাইন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন