ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে শুক্রবার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয় এবং জুম্মার নামাজের আগে খুতবায় এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রচারণায় জানানো হয়, মাঠে খড়, গমের নাড়া বা ফসলের অবশিষ্টাংশ আগুন দিয়ে পোড়ানো থেকে বিরত থাকতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের আগুনে মাটির উর্বরতা কমে যায়, উপকারী জীবাণু ধ্বংস হয় এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়। যদিও অনেকের মধ্যে ধারণা রয়েছে পোড়া ছাই জমির জন্য উপকারী, তবে বাস্তবে এতে ক্ষতির পরিমাণই বেশি।
এছাড়া আগুন লাগানোর ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়ে ফসলসহ সাধারণ জনগণের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। পার্শ্ববর্তী জমির ফসল ও কৃষকের বসতবাড়িও আগুনে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে সতর্ক করা হয়। এ অবস্থায় কৃষকদের জমিতে থাকা নাড়া বা ফসলের অবশিষ্টাংশ আগুন না দিয়ে ট্রাক্টরের মাধ্যমে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে মাটির জৈবগুণ বৃদ্ধি পায় এবং ফসলের উৎপাদনও ভালো হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর মাধ্যমে ইমামদেরও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খুতবায় তুলে ধরার অনুরোধ করা হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে জুম্মার নামাজের আগে খুতবায় কৃষকদের উদ্দেশ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগের ফলে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
পড়ুন- ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ
দেখুন- ভৈরবের নবীপুরে আশ্রয়ন কেন্দ্রে জুয়া-মাদক, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে স্থানীয়রা


