জনগণের রায় অগ্রাহ্য করাকে ফ্যাসিবাদের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জনগণের রায়কে অবলীলায় অগ্রাহ্য ও অস্বীকার করার নামই হচ্ছে ফ্যাসিবাদের সূচনা।’
আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা।
সমাবেশে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ একটি রোগ। নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা শাসকের পতন ঘটলেও ফ্যাসিবাদ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না; এটি এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা দেশে আর ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। যারা এখন ক্ষমতায় আছে, তারাও একসময় নিপীড়নের শিকার ছিল। আমরাও ছিলাম, গোটা জাতিই ছিল মজলুম।
সাবেক ও বর্তমান নিপীড়িতদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা আবারও জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই। জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ১১ দল ও জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
সংবিধান ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণ দুটি বিষয়ে মতামত দিয়েছে—সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে। এখন যদি ৫১ শতাংশের কথা বলা হয়, তবে ৬৮ শতাংশের মতামত উপেক্ষা করা যায় না। এটি গণতন্ত্রের পরিপন্থী।’
এ সময় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সমালোচনা করে বলেন, ‘তারা বলছে সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই। অথচ তাদের প্রতিষ্ঠাতার সময়ই দেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।’
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং ‘কাটাছেঁড়া সংবিধান’ নয়, বরং জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন ঘটানো পূর্ণাঙ্গ সংবিধান চায় জামায়াত।
জ্বালানি তেল সংকট নিয়েও তিনি সমালোচনা করে বলেন, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সরকারের বক্তব্যের মিল নেই। ‘সংসদে বলা হচ্ছে কোনো সংকট নেই, অথচ পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে এবং কোথাও কোথাও বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।
পড়ুন: স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল
আর/


