বিজ্ঞাপন

বিলাসবহুল বলরুমের আড়ালে হোয়াইট হাউসে সামরিক বাঙ্কার বানাচ্ছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিলাসবহুল বলরুম নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি শুরুতে গোপন রাখা হলেও, আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার কারণে এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনা সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রকাশ করছে হোয়াইট হাউস।

প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে হোয়াইট হাউসের প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে একটি বিশাল বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। যার ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলার। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। এই প্রকল্পের দৃশ্যমান অংশের চেয়ে ভূগর্ভস্থ অংশ বেশি জটিল ও ব্যয়বহুল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বলরুম তৈরির জন্য ইতোমধ্যে নির্মাণকর্মীরা মাটি খুঁড়ে পুরোনো প্রেসিডেনশিয়াল ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার (পিইওসি) ভেঙে নতুন, বড় ও আধুনিক স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত পিইওসি জরুরি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হতো।

নাইন-ইলেভেনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পরে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকেও নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়েছিল এই প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টারে। এমনকি ২০২০ সালে আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের হত্যা ঘিরে তৈরি হওয়া আন্দোলনের সময়ও ট্রাম্পকে রাখা হয় এই বাঙ্কারে ।

সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, তার পরিকল্পিত ৯০ হাজার বর্গফুটের বলরুমটি মূলত নিচের সামরিক স্থাপনাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য কাজ করবে। তার দাবি, ভূগর্ভস্থ এই স্থাপনায় নিরাপদে বোমা রাখা ব্যবস্থা , উন্নত চিকিৎসাসুবিধা, এমনকি একটি হাসপাতালও থাকবে। পাশাপাশি থাকবে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা ও জীবাণু অস্ত্র মোকাবিলার ব্যবস্থা।

তবে ট্রাম্পের বলরুম তৈরির কাজ আটকে দিয়েছেন মার্কিন বিচারক জাজ রিচার্ড লিওন। তিনি বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন না পেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কাজ করতে পারবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশনের একটি নিষেধাজ্ঞা আবেদন প্রাথমিকভাবে আমলে নিয়ে রিচার্ড লিওন এ আদেশ দেন।

তবে বিচারক লিওন বলেছেন, হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যতটুকু নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, তার ওপর এই আদেশ কার্যকর হবে না।

এদিকে ইউনাইটেড স্টেটস সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, নির্মাণকাজ থেমে গেলে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সংস্থাটির ডেপুটি ডিরেক্টর ম্যাথিউ রিচার্ড কুইন আদালতে দাখিল করা নথিতে বলেন, প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ থাকলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি তৈরি হবে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, প্রকল্পটির কিছু অংশ ‘টপ সিক্রেট’ হওয়ায় সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ফলে এই বাঙ্কারের প্রকৃত পরিধি, ব্যয় ও সামরিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।

সূত্র: নিউইর্য়ক টাইমস

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু গুঁড়িয়ে দিলো মার্কিন বাহিনী, নিহত ৮

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন