নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যুতের ভোগান্তি দূর করতে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে অভিভাবকদের দাবির মুখে স্কুলের আইপিএস (IPS) কেনার জন্য নিজের এক মাসের বেতনের এক লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে কলমাকান্দার মুক্তি প্রি-ক্যাডেট স্কুলে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আকস্মিকভাবে উপজেলার মুক্তি প্রি-ক্যাডেট স্কুল পরিদর্শনে যান ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক তালুকদার তাকে স্বাগত জানান। স্কুলটিতে প্লে-গ্রুপ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত দুটি শিফটে চার শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে প্রচণ্ড গরমে ক্লাস করতে গিয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছিল।
ডেপুটি স্পিকারের উপস্থিতির খবর পেয়ে স্কুলের গেটে জড়ো হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর মা ও অভিভাবক। রুমা আক্তার, মরিয়ম, পিংকি সাহা, রিমা আক্তার, লিপি সরকার এবং ছায়া রানীর মতো অভিভাবকবৃন্দ ডেপুটি স্পিকারকে ঘিরে ধরে স্কুলের বিদ্যুৎ সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং শিশুদের নিরবচ্ছিন্ন পাঠদানের স্বার্থে একটি আইপিএস স্থাপনের দাবি জানান তারা।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাদের কথা শুনছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় তিনি অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে বলেন, স্কুলের কর্তৃপক্ষ বা অন্য কারও দিকে তাকিয়ে না থেকে তিনি নিজেই এই সমস্যার সমাধান করবেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা দেন, “আমি আমার এক মাসের বেতন এক লাখ টাকা দিয়ে দিলাম, আপনারা ভালো মানের একটি আইপিএস কিনে নেবেন।”
ডেপুটি স্পিকারের এ ঘোষণার সাথে সাথেই উপস্থিত অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা হর্ষধ্বনি ও করতালির মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানান। সাধারণ মানুষের খুব কাছাকাছি গিয়ে তাদের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের এমন উদ্যোগে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিভাবক রুমা আক্তার ও পিংকি সাহা বলেন, “প্রচণ্ড গরমে বাচ্চারা স্কুলে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। আমরা ডেপুটি স্পিকার মহোদয়কে কাছে পেয়ে আমাদের কষ্টের কথা বলি। তিনি এত দ্রুত এবং নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে সমাধান করে দেবেন, তা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।”
প্রধান শিক্ষক এনামুল হক তালুকদার জানান, “মুক্তি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের জন্য আজ অত্যন্ত আনন্দের ও স্মরণীয় দিন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয় সকালে আকস্মিকভাবে আমাদের স্কুল পরিদর্শনে আসেন। এটি আমাদের জন্য যেমন চমকপ্রদ ছিল, তেমনি তার পরবর্তী পদক্ষেপটি ছিল অভাবনীয়।”
স্কুল সূত্রে জানা যায়, মুক্তি প্রি-ক্যাডেট স্কুলে প্রতিষ্ঠানে প্লে থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত দুই শিফটে চার শতাধিকের বেশি কোমলমতি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু গরমের দিনে লোডশেডিংয়ের কারণে ছোট ছোট বাচ্চাদের ক্লাসে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। স্কুলটি কয়েকজন সচেতন অভিভাবক- বিশেষ করে রুমা আক্তার, মরিয়ম, পিংকি সাহা, রিমা আক্তার, লিপি সরকার এবং ছায়া রানী ডেপুটি স্পিকারের কাছে বাচ্চাদের কষ্টের কথা তুলে ধরে একটি আইপিএসের দাবি জানান।
ডেপুটি স্পিকার অত্যন্ত ধৈর্য ও সহানুভূতির সাথে অভিভাবকদের কথা শুনেছেন। শুধু তাই নয়, স্কুলের আইপিএস কেনার জন্য তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে তার এক মাসের বেতন, অর্থাৎ এক লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এমন মহানুভবতা ও শিক্ষানুরাগী মনোভাব স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবদের মুগ্ধ করেছে।
স্কুল পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং সকল শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তার অনুদানের ফলে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এখন থেকে গরমেও স্বস্তিতে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।
পড়ুন- হাম উপসর্গে ১৯ দিনে ৯৪ জনের মৃত্যু, সংক্রমণ ছড়িয়েছে ৫৬ জেলায়
দেখুন- জ্বালানি সংকটে ৬টায় মার্কেট বন্ধের সিদ্ধান্ত, যা বলছেন সাধারণ মানুষ


