বিজ্ঞাপন

তিন কর্মকর্তার লুটপাটে ডুবছে মেহেরপুর বিএটি’র তামাক ব্যবসা

মেহেরপুরে তিন কর্মকর্তার লুটপাটে ডুবতে বসেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো তামাক ব্যবসা। দেশের অর্থনীতিতে বড় ভুমিকা রাখা এই প্রতিষ্ঠানে লুটপাট বন্ধ না হলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাবে তেমনি তামাক চাষীরা ক্ষতির মুখে পড়বে। এদিকে কর্মকর্তাদের অধিক লাভের আশায় মেহেরপুরের পার্শবর্তী দুটি জেলা থেকে নিম্নমানের তামাক ক্রয়ের অভিযোগ তো রয়েছে।

বিজ্ঞাপন


ডিপো ম্যানেজার আর এম হাসিবুর রহমান, লিফ অফিসার সাধন বিশ্বাস ও সংচারি সহ তাদের কয়েকজন সহযোগী কখনও কৃষকের নামের আবার কখনও কৃষকদের বাদ দিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে চুক্তি করে নিম্নমানের তামাক ক্রয় করে আসছে। ফলে একদিকে যেমন কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তেমনি লোকসানে পড়ছে কোম্পানী আর পেটফুলে কলাগাছ হচ্ছে লুটপাটকারী ৩ কর্মকর্তা সহ তাদের সহযোগীরা।
প্রতিবছর মেহেরপুরে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারীর নানা প্রলোভনে তামাক চাষ করে নায্যমূল্যে বিক্রি করতে না পেরে দিনদিন নি:স্ব হয়ে পড়ছে চাষীরা।


তামাক চাষীরা বলেন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির ডিপো ম্যানেজার আর এম হাসিবুর রহমান, লিফ অফিসার সাধন বিশ্বাস ও সংচারি মেহেরপুর জেলায় যোগদানের পর থেকে চাষীদের জিম্মি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিম্নমানের তামাক উচ্চমূল্যে ক্রয় করে নিজের কমিশন ঠিক রেখে কোম্পানীকে পথে বসানোর পায়তারা করছেন। এছাড়া তার নানা অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও তামাক পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন চাষীরা। ইচ্ছেমত কার্ড বিতরন ও বাতিল করার ফলে চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।


‎ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কর্মকর্তাদের নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে মেহেরপুর সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে কালী গাংনী গ্রামের কার্ড বঞ্চিত তামাক চাষিরা মানববন্ধন করে।


ধারাবাহিক কর্মসূচীতে মেহেরপুর ব্রিটিশ আমেরিকা টোব্যাকো কোম্পানির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওজনে কম ও তামাকের নায্য মূল্যে না দেয়া এবং তামাক ক্রয়ে অনিয়ম,সেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তামাক পুড়িয়ে প্রতিবাদ করে চাষীরা।
তামাক চাষীদের অভিযোগ কতিপয় কর্মকর্তারা তামাক ব্যবসায়ীদের সাথে গোপনে আতাত করে নিম্নমানের তামাক উচ্চমুল্যে ক্রয় করছে। ন্যায্য মূল্যে না পাওয়া সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে তামাকচাষীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে তামাকের বেলে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্রিটিশ আমেরিকা টোব্যাকো কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্থ তামাক চাষীরা।
‎ব্রিটিশ আমেরিকা টোব্যাকো কোম্পানির মেহেরপুর অঞ্চলের ৪০ ভাগ কার্ড ফাঁকা রয়েছে আর এই ফাঁকা কার্ডের ব্যবসায়ীদের সাথে চুক্তি করে তামাক ক্রয় করে আসছেন দায়ত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যার ফলে কৃষকের পাশাপাশি কোম্পানীও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। দালাল চক্র আর কোম্পানীর কয়েক কর্মকর্তার ফাঁদে পড়ে অনেক তামাক চাষীকেই সর্বশান্ত করেছে।


ইতোপূর্বে তামাকচাষীরা লাভের মুখ দেখতে শুরু করলে এলাকায় হাসি মুখে তামাক চাষ বৃদ্ধি হয় বর্তমানে তামাক ক্রয়ে অনিয়ম,সেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে তামাক চাষীরা।
তামাকচাষীরা বলেন, জমি তৈরি, চারা রোপন, সার ও কীটনাশক মিলিয়ে তামাক চাষাবাদের জন্য কোম্পানির সুবিধার্থে নানা রকমের সুযোগ-সুবিধা দিলেও তামাক বিক্রির সময় নায্য মূল্যে দিতে চাইনা একারনে চাষীরা লোকসানে পড়ছে। তবে ম্যানেজার থেকে শুরু করে কয়েকজন কর্মকর্তাকে খুশি করতে পারলে লাভবান হওয়া যায়। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো মেহেরপুরে পরিবেশের ক্ষতি করে, শ্রমিকদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা সামাজিক দূরত্ব কোনোটাই নিশ্চিত না করে শ্রম আইন অমান্য করে কর্মীদের শোষণ করে। যা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।


সরেজমির ঘুওে দেখা গেছে,‎গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া এলাকার এফটি মিনারুল ইসলামের সামনেই কোম্পানির নির্দেশনা উপেক্ষা করে কয়েকজন পলিথিন দিয়ে তামাক ঘর তৈরি করে তামাক শুকানোর কাজ করছেন। তাদের সাথে উৎকোচ নেওয়ার কারণে নিবর ভুমিকা পালন করছেন।


‎চাষীদের অভিযোগ কোম্পানীর কর্তবাবুরা তামাক সময় মত না নেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন তারা পওে বাধ্য হয়ে অধিকাংশ চাষী তামাক বিক্রয় না করতে পেরে নামমাত্র টাকায় ব্যবসায়ীদের কাছে তামাক বিক্রয় করতে বাধ্য হয়। দ্রত সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীদের তামাক ক্রয় বন্ধের দাবি জানিয়েছেন প্রকৃত ব্রিটিশ টোব্যাকো কোম্পানির বঞ্চিত চাষীরা।


‎‎তবে অভিযোগ রয়েছে চাঁদপুর গ্রামের মোঃ সাখাওয়াত হোসেন মোঃ জামান হোসেন, গাংনী উপজেলার নওয়াপাড়ার মো: রবিউল ইসলাম, রহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, সুমন আলী, ঝোড়পাড়ার মো: শফিউল ইসলাম, চেংগাড়ার আলফাজ হোসেন, গোপালপুরের খোকন, দলিয়ারপুরের জাহাঙ্গীর হোসেন,হাটবোয়ালিয়া ও ভাংবাড়ীয়া সহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২০ জন তামাক ব্যবসায়ী গোপালপুর এরিয়ায় এফটি সোহেল রানা, ঝোড়পাড়া সাব এরিয়ার এফটি আলমগীর হোসেন, নওয়াপাড়া সাব এরিয়ার এফটি সুমন আলী, চাঁদপুর সাব এরিয়ার এফটি মিল্টন হোসেন, জোড়পুকুরিয়া সাব এরিয়ার এফটি মিনারুল ইসলামের সহযোগিতায় ব্রিটিশ টোবাকো কোম্পানির ফাঁকা কার্ডে নিম্নমানের তামাক বিক্রয় করে আসছেন।


প্রাপ্ততথ্য অনুযায়ী ১:০১০১৭০০০০২৪০=যধ.১.২,‎২:০১০১৭০০০০২৮৪=যধ. ১.৫,‎৩.০১০১৭০০০০৩৪৭=যধ.১.৩,‎৪.০১০১৭০০০০৩৮৯=যধ.১.০০,‎৫.০১০১৭০০০০৪৪১=যধ.০.৬,‎৬.০১০১৭০০০০৫৩৫=যধ.১.০০,‎৭.০১০১৭০০০০৫৭৩=যধ.১.৬৮.০১০১৭০০০০৫৭৫=যধ.১.২,৯.০১০১৭০০০০৬৯৮=যধ.১.০০,১০.০১০১৭০০০০৭৯৪=যধ.০.৮,‎১১.০১০১৭০০০১০৪৬=যধ.০.৮,১২.০১০১৭০০০১০৮৪=যধ.০.৮,১৩.০১০১৭০০০১০৯৯=যধ.১.৬,১৪.০১০১৭০০০১৩৪৩=যধ.১.০০,১৫.০১০১৭০০০১৩৫৭=যধ.১.০০,১৬.০১০১৭০০০১৪০৬=যধ.১.২,১৭.০১০১৭০০০১৪১৪=যধ.০.৮,‎১৮.০১০১৭০০০১৪৩৪=যধ.০.৮,‎১৯.০১০১৭০০০১৪৫১=যধ.০.৮,২০.০১০১৭০০০১৫৫১=যধ.০.৮,‎২১.০১০১৭০০০১৫৫৪=যধ.১.০০,‎২২.০১০১৭০০০১৫৫৮=যধ.১.২,২৩.০১০১৭০০০১৫৬৪=যধ.১.০০,‎২৪.০১০১৭০০০১৫৬৫=যধ.০.৮,‎২৫.০১০১৭০০০১৫৬৮=যধ.১.০০,‎২৬.০১০১৭০০০১৫৭৪=যধ.০.৮,‎২৭.০১০১৭০০০১৫৭৭=যধ.১.০০,‎২৮.০১০১৭০০০১৫৭৮=যধ.০.৮,‎২৯.০১০১৭০০০১৫৮১=যধ.০.৮ ‎কর্মকর্তাদের ইশারায় এই কার্ডগুলো নিয়ে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে সাধন বিশ্বাস এবং সাইফুল ইসলাম সহ কয়েকজন ব্যবসা করে আসছেন।


‎‎ভোমরদহ গ্রামের ব্রিটিশ টোব্যাকো কোম্পানির ফিল্ড কর্মকর্তা জুয়েল রানা ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে উৎকোচ উত্তোলন করে এফটি সাইফুল ইসলামের কাছে তুলে দেন। পরে টাকা গুলো লিফ অফিসার সাধন বিশ্বাস, সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ভাগাভাগি নেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।


‎‎কৃষকরা আরও বলেন, লিফ অফিসার সাধন বিশ্বাস ও এফটি সাইফুল ইসলাম গড়ে তুলেছেন বড় ধরনের সিন্ডিকেট। আর সেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তামাকের নির্ধারিত মূল্যে’র চেয়ে বেশি দাম দিয়ে ব্যাবসায়ীদের নিকট থেকে রাতের আধাঁরে পুরানো তামাক ক্রয় করে লুটপাট করছে কোম্পানীর বিপুল পরিমান টাকা।
‎‎আবারো চলতি মৌসুমে প্রকৃত চাষীদের কার্ড কেটে দিয়ে ব্যবসায়ীদের কার্ডগুলো বহাল রেখেছেন তারা। ব্রিটিশ টোবাকো কোম্পানির কার্ডধারী ব্যবসায়ীদের ফাঁকা কার্ডগুলো তদন্তের জন্য ব্রিটিশ টোবাকো কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী। ‎
‎কৃষকরা নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ব্রিটিশ টোবাকো কোম্পানির প্রকৃত ১০০ তামাক চাষীর কার্ড অবৈধভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে।
‎‎বঞ্চিত তামাক চাষিরা হলেন নওয়াপড়া গ্রামের মোছা: রহিমা খাতুন,ইমন আলী , সুমন আলী,আব্দুর রহমান,দীন মোহাম্মদ,ওলি মোহাম্মদ,মরজেম,মিলন,বাকি রুল,সাইফুল,খাইরুল,মাহাবুল,রাহান বিপ্লব,শেখ,জানবার,তুহিন,জিহাদ,শাহাবুদ্দিন,আমিরুল,সাহারুল,আমজাদ,কাউসার,সরোয়ার,আবুল বাশার,হিমেল ,ইয়ারুল ইসলাম,আলী ও মোহাম্মদ প্রমুখ।


‎এ ব্যাপারে ব্রিটিশ টোবাকো কোম্পানির মেহেরপুর অঞ্চলের আর এম হাসিবুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বারবার কল ও এসএমএস দেয়া হলেও কোন সাড়া দেনননি।

পড়ুন- ঢাকায় বাড়ছে গরম, তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৩৬ ডিগ্রি

দেখুন- মৌলভীবাজারে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন