কুড়িগ্রামে ধানক্ষেতে ভেসে উঠলো জাতীয় স্মৃতিসৌধ।ধান গাছের চারা লাগিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি তৈরি করে আলোচনায় এসেছেন মোঃ জাফর সাদিক নামের এক শিক্ষক। তিনি জেলার উলিপুর উপজেলার উলিপুর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হিসাবে কর্মরত আছেন তিনি।এর আগে ধান গাছের চারা দিয়ে ধানক্ষেতে জাতীয় ফুল, পতাকা আর দেশের মানচিত্রের নকশা ফুটিয়ে তুলেছিলেন এই স্কুলশিক্ষক।
পেশায় শিক্ষক হলেও কৃষির প্রতি আলাদা ভালোবাসা রয়েছে জাফর সাদিকের। নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি তিনি নিজের জমিতে চাষাবাদ করেন।এবছর জাফর সাদিক তার মাস্টার সিডের ১ নং প্রজেক্টে চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ১৭ বিঘা জমিতে ব্রি ধান ১০০, ১০২,১০৮,১১৩,১১৪, রড মিনিকেট, বাসমতি ও ব্লাকরাইস জাত চাষ করেছেন। সেই প্রজেক্টে ব্রি ধান ১১৩ এর ক্ষেতে বেগুনি ধানের চারা দিয়ে স্মৃতিসৌধ এঁকেছেন।
মোঃ জাফর সাদিক বলেন, ‘শিক্ষকতা আমার পেশা, কৃষি আমার নেশা, আর দেশপ্রেম আমার রক্তে মিশে থাকা বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস থেকেই কৃষিক্ষেত্রকে দেশপ্রেম জাগানোর সৃজনশীল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছি।’
উলিপুর টু রাজারহাটের ব্যস্ততম সড়কের ধারে থাকা তার ধানক্ষেত প্রতিদিন শত শত মানুষের নজর কাড়ে। দূর থেকেই দেখা যায় ধানের চারা দিয়ে তৈরি স্মৃতিসৌধের নকশা। পথচারীদের অনেকেই থেমে ছবি তোলেন এবং স্মরণ করেন স্বাধীনতার রক্তঝরা ইতিহাস।
জাফর সাদিক বলেন, ‘প্রজন্মকে ইতিহাস জানতে হবে। বিদ্যালয়ে আমি বইয়ের মাধ্যমে শেখাই, আর মাঠে মাটির মাধ্যমে তুলে ধরি সেই ইতিহাসের বীরত্ব।”
তার এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ধানক্ষেতে তোলা স্মৃতিসৌধের এই প্রতিচ্ছবি সামাজিক মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন এটি শুধু এক কৃষকের শিল্প নয়, বরং শহীদদের প্রতি এক নীরব শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং দেশপ্রেমের জীবন্ত উদাহরণ।
পড়ুন : কুড়িগ্রামে তদন্ত ছাড়াই মামলা, প্রতিবেশীর প্রতিবাদকে মব বলছে পুলিশ


