বাংলাদেশ ক্রিকেটে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। জাতীয় দলের দুই সীমিত ওভারের ফরম্যাটে বর্তমান অধিনায়কত্বের কাঠামো দীর্ঘমেয়াদে স্থির করে দিয়েছে বোর্ড। ফলে ওয়ানডেতে মেহেদী হাসান মিরাজ এবং টি-টোয়েন্টিতে লিটনের ওপরই আস্থা রাখছে বিসিবি।
গত বছরের জুনে এক বছরের চুক্তিতে ওয়ানডে দলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মিরাজ। তখন সিদ্ধান্তটি ছিল অনেকের কাছে পরীক্ষামূলক—কারণ দলের নেতৃত্বে তখন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা স্পষ্ট ছিল না। তবে এক বছর পর বোর্ডের মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, মাঠে তার নেতৃত্ব, দল পরিচালনার ধরন এবং ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বিসিবির আস্থা অর্জন করেছে। সেই কারণেই তার মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২৭ ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ পর্যন্ত।
বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম জানিয়েছেন, কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, সামনে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দল গঠনের প্রক্রিয়ায় ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চায় না বোর্ড। বিশেষ করে ওয়ানডেতে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকতা হারিয়েছে—সেখানে দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব দলকে স্থিতিশীল করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে টি-টোয়েন্টিতেও একই দর্শন অনুসরণ করেছে বিসিবি। লিটনের চুক্তি আগে ছিল এ বছরের টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি নেতৃত্ব দেবেন ২০২৮ সাল পর্যন্ত।
লিটনের ক্ষেত্রে বোর্ডের এই আস্থা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা নিয়ে সমালোচনা থাকলেও নেতৃত্বে তাকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত এক বছরে টি-টোয়েন্টি দলে আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের যে ধারণা তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে, তার কেন্দ্রেও ছিলেন তিনি। বোর্ড সম্ভবত মনে করছে, নেতৃত্বে সময় দিলে তার কৌশলগত চিন্তাও আরও পরিণত হবে।
একই সঙ্গে সহ-অধিনায়কত্বেও স্থিতিশীলতা আনা হয়েছে। ওয়ানডেতে সহ-অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন শান্ত এবং টি-টোয়েন্টিতে দায়িত্বে থাকছেন সাইফ। এতে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বিকল্প প্রস্তুত রাখার বার্তাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে বিসিবির এই সিদ্ধান্ত কেবল অধিনায়ক ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল—যেখানে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নির্দিষ্ট নেতৃত্ব কাঠামো ধরে দলকে গড়ে তোলার চেষ্টা স্পষ্ট।


