বিজ্ঞাপন

মাদারীপুরে আগুনে পুড়ে ছাই ৩ দোকান, ক্ষতি প্রায় ৬০ লাখ টাকা

মাদারীপুর পৌর শহরের কুলপদ্দী বাজারে অগ্নিকাণ্ডে একটি সাউন্ড লাইটিংয়ের দোকানসহ দুটি কাপড়ের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

শনিবার গভীর রাতে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কুলপদ্দী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব এবং মাদারীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন হাওলাদার । তারা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দেন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলপদ্দী বাজারটি এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাত ১১টার দিকে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। রাত আনুমানিক ২টার দিকে ‘লামিয়া ডিজিটাল সাউন্ড’ নামের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত দেখতে পান স্থানীয় মসজিদের ইমাম। তিনি দ্রুত আশপাশের লোকজনকে খবর দিলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে এসে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এরই মধ্যে ‘সুগন্ধা টেইলার্স’ ও ‘মোল্লা টেইলার্স’সহ তিনটি দোকানের সব মালামাল পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ‘লামিয়া ডিজিটাল সাউন্ড’-এর মালিক মাহামুদ কামাল বলেন, “আমার দোকানে ছয়টি সাউন্ড বক্স, ৩৪টি মাইক, ১৯টি মাইকের সেট, তিনটি মিক্সার, পাঁচটি ইকো সেট, ৬০টি মাইক্রোফোন ও প্রায় ৪০০টি লাইটসহ অনেক মূল্যবান সরঞ্জাম ছিল। সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। ধার-দেনা করে দোকান করেছিলাম। এখন কীভাবে ঋণ শোধ করব বুঝতে পারছি না।”
‘সুগন্ধা টেইলার্স’-এর মালিক আল আমিন বলেন, “দোকানে সেলাই মেশিন ও বিপুল পরিমাণ কাপড় ছিল। ঈদে বেচাকেনা কম হওয়ায় অনেক মাল অবিক্রীত ছিল। সব পুড়ে গেছে। আমার প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে ১০ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়—এখন কীভাবে দেব জানি না।”

‘মোল্লা টেইলার্স’-এর মালিক ইউসুফ মোল্লা জানান, প্রবাস থেকে ফিরে সব সম্পদ বিক্রি করে তিনি এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু আগুনে সব হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
স্থানীয়রা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের সহায়তা জরুরি। বিশেষ করে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা করা হলে তারা পুনরায় ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

বাজার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজাদ খান বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে আমরা সবাই চেষ্টা করবো।”

মাদারীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন হাওলাদার বলেন, আমাদের এমপি মহোদয় বিষয়টা অবগত আছে। তিনি ঢাকায় আসেন। আমি এখানে এসেছি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকতে পারি কিনা পাশে থেকে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করতে পারি কিনা এজন্য।

মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬০ লাখ টাকা।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব জানান, “ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বাজারে নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মাদারীপুরে বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর,সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন