বিজ্ঞাপন

ব্যয় কমাতে সরকারি দপ্তরে নতুন গাড়ি ক্রয়সহ বেশকিছু খাতে বরাদ্দ বন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ব্যয় কমাতে সরকারি দপ্তরে নতুন গাড়ি ক্রয়সহ বেশকিছু খাতে বরাদ্দ সংকোচনের নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। রোববার (৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, ব্যয় কমাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সরকারি দপ্তরে নতুন গাড়ি ক্রয়, কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয়, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, বিনা সুদে ঋণ প্রদান ও ভূমি অধিগ্রহণে বরাদ্দ বন্ধ থাকছে। সেই সঙ্গে সংশোধিত বাজেটে আপ্যায়ন, স্থাপনা নির্মাণ ও সভা-সেমিনারের খরচ বাবদ বরাদ্দ কমে অর্ধেক হচ্ছে।


এ বিষয়ে পরিপত্রে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশোধিত বাজেটে কিছু খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে সরকার বেশকিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ ক্ষেত্রে আপ্যায়ন ব্যয় ও মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তর কর্তৃক পরিচালিত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ খাতে অব্যয়িত (বরাদ্দকৃত) অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে।

তবে বিভিন্ন সরকারি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কর্তৃক পরিচালিত প্রশিক্ষণগুলো এর আওতা বহির্ভূত থাকবে। এছাড়া সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ/সেমিনার/সিম্পোজিয়াম/ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ, পেট্রোল, অয়েল ও লুব্রিকেন্ট, গ্যাস ও জ্বালানি এবং ভ্রমণ ব্যয় খাতে অবশিষ্ট অর্থের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। এর অতিরিক্ত ব্যয় করলে ভবিষ্যতে কোনো বকেয়া দাবি করা যাবে না। এছাড়া সেমিনার/কনফারেন্স ব্যয় খাতে অবশিষ্ট অর্থের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। তবে সব ধরনের সভা/সেমিনার/কনফারেন্স/সিম্পোজিয়াম/ওয়ার্কশপের আপ্যায়ন ব্যয়ে ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে।

অন্যদিকে সব ধরনের যানবাহন ক্রয় (মোটরযান, জলযান, আকাশযান) খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি ক্রয়ে সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম (সুদমুক্ত ঋণ) প্রদান বন্ধ থাকবে। তবে আবাসিক/অনাবাসিক/অন্যান্য ভবন স্থাপনা খাতে অবশিষ্ট অর্থের ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। সেই সঙ্গে চলমান নির্মাণকাজ ন্যূনতম ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকলে অর্থ বিভাগের অনুমোদনক্রমে ব্যয় নির্বাহ করা যাবে।

এছাড়াও পরিপত্র অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ শোভাবর্ধন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। তবে পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ব্যয় বন্ধ থাকবে। এছাড়া উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রে অধিগ্রহণ কার্যক্রমের সব আনুষ্ঠানিকতা প্রতিপালনপূর্বক অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন গ্রহণ সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে।

এ আদেশ জারির তারিখ থেকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অবশিষ্ট সময়ে সংশোধিত বাজেটের আওতায় উল্লেখিত খাতগুলোয় ব্যয় সংকোচনের এই নীতি বলবৎ থাকবে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সাউন্ড সিস্টেমে ত্রুটির কারণে ৪০ মিনিটের জন্য সংসদ মুলতবি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন