পাবনায় কোনো প্রকার অনুমোদন বা সাইনবোর্ড ছাড়াই ‘তেজ’ নামের একটি ব্র্যান্ডের ডিটারজেন্ট পাউডার তৈরি ও বিপণনের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যাংক কর্মকর্তার পরিবারের বিরুদ্ধে। ইসলামী ব্যাংক সুজানগর শাখার কর্মকর্তা ইব্রাহিমের মদদে তার স্ত্রী হোসনেয়ারা পাবনা পৌর এলাকার একটি আবাসিক বাড়িতে গড়ে তুলেছেন এই অবৈধ ব্যবসার আস্তানা।
আতাইকুলা থানার তৈলকূপ গ্রামে লোকচক্ষুর অন্তরালে একটি বাড়িতে মেশিনের সাহায্যে ডিটারজেন্টের মিশ্রণ তৈরি করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাড়িটিতে সারাদিন মেশিন চললেও বাইরে কোনো সাইনবোর্ড না থাকায় তারা এতদিন জানতেন না ভেতরে কী তৈরি হচ্ছে। গ্রামের সেই কারখানায় কাঁচামাল মিশ্রণের পর সেগুলো কৌশলে নিয়ে আসা হয় পাবনা পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের একটি আবাসিক এলাকায়। সেখানে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ঘরোয়া পরিবেশে প্যাকেটজাত করে ‘তেজ’ ব্র্যান্ড নামে বাজারে ছাড়া হচ্ছে।
সরেজমিনে শহরের ওই আবাসিক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কারখানা সংবলিত বাড়িটির গেট ভেতর থেকে তালাবদ্ধ। অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে সেখানে শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে মালিক দাবিদার হোসনেয়ারা গেট খুলতে অস্বীকৃতি জানান এবং কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
অভিযোগ উঠেছে, স্বামীর ব্যাংক কর্মকর্তার পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জনক্ষোভ
আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক বা কেমিক্যাল মিশ্রিত ডিটারজেন্ট তৈরির ফলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন প্রতিবেশীরা। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একজন ব্যাংক কর্মকর্তার মদদে এভাবে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবৈধ কারখানা পরিচালনা সরকারি ও নৈতিক বিধিমালার পরিপন্থী। দীর্ঘদিন ধরে এই ‘মহাউৎসব’ চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি না থাকাটা রহস্যজনক বলে মনে করছেন তারা।
পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। তবে সরকারি নিয়ম অমান্য করে কেউ যদি উৎপাদন বা ব্যবসা পরিচালনা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন: ক্ষমতাসীন দলের অধীনে প্রথম নির্বাচনেই কারচুপি: গোলাম পরওয়ার
আর/


