বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউকে এর সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মোঃ আতাউর রহমান বলেছেন, বিশ্ব আজ উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। প্রতিদিন উঠছে নতুন নতুন সেতু, ভবন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি—কিন্তু পিছিয়ে পড়ছে প্রকৃতি। একসময় যে পথে শিশুরা ছায়া মেলে খেলত, আজ সেখানে শুধু রোদের তাপে পুড়ে যাওয়া ধুলো। যে বনে পাখির কলতানে সকাল হতো, সেখানে এখন মেশিনের গর্জন। আমরা যেন ভুলে গেছি—গাছ শুধু প্রকৃতির সাজ নয়, এটি আমাদের জীবনের ভিত্তি।
উন্নয়ন মানে কেবল কংক্রিট আর লোহার দেয়াল নয়। উন্নয়ন মানে মানুষের জীবনকে সহজ করা, নিরাপদ করা এবং টেকসই করা। আমরা রাস্তা তৈরি করব, কিন্তু সেই রাস্তার ধারে গাছও রাখব; আমরা কারখানা গড়ব, কিন্তু তার চারপাশে সবুজও ফিরিয়ে আনব। কারণ গাছ শুধু ছায়া দেয় না, এটি দেয় জীবন—অক্সিজেন, খাদ্য, আশ্রয় আর সৌন্দর্য।
প্রতিটি কাটা গাছের সঙ্গে আমরা হারাই একটি ছোট্ট পৃথিবী—হারাই পাখির বাসা, হারাই শিশুর হাসি, হারাই ভবিষ্যতের বৃষ্টি। জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মমতা আজ আর কল্পকাহিনি নয়—এটি এখন প্রতিদিনের বাস্তবতা। তীব্র গরম, আকস্মিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, বাতাসে দূষণ—সবই আমাদের করা ভুলের ফলাফল।
কিন্তু এখনো সময় আছে। আমরা চাইলে এই পথ পাল্টাতে পারি। উন্নয়নের প্রতিটি প্রকল্পে “সবুজ বাজেট” যোগ করা সম্ভব। যে সড়ক হবে, তার পাশে অন্তত দ্বিগুণ গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক করা যায়। শহরে ছাদবাগান, খালি জায়গায় বনসৃজন, বিদ্যালয় ও অফিসে সপ্তাহে একদিন সবুজ দিবস পালন—এসব ছোট উদ্যোগেই গড়ে উঠবে বড় পরিবর্তন।
আমরা যদি গাছকে ভালোবাসতে শিখি, প্রকৃতি আমাদের আরও উদারভাবে ফিরিয়ে দেবে জীবন। কারণ প্রকৃতি কখনো শত্রু নয়—আমরাই তাকে শত্রু বানাই। আমাদের সন্তানদের জন্য একটি শ্বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে চাইলে এখনই সময় উন্নয়নের সংজ্ঞা পাল্টাতে হবে।
সত্যিকারের উন্নয়ন সেই, যা মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে ভারসাম্য আনে।
যেখানে সেতুর নিচে নদী বয়ে যায়,
রাস্তার ধারে ছায়া দেয় অশ্বত্থ,
আর শহরের আকাশে ভেসে বেড়ায় সবুজের নিশ্বাস।
তাই আসুন, আজই আমাদের অঙ্গীকার হোক—
“উন্নয়ন হোক গাছকে বাঁচিয়ে, ধ্বংস করে নয়।”
পড়ুন: সংসদে নারায়ণগঞ্জ-বরিশাল-ময়মনসিংহ-কুমিল্লা ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল পাস


