শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের দুইদিনব্যাপী ৪৪তম অধিবেশন। আজ শুক্রবার সকালে একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে এ অধিবেশনের উদ্বোধন করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বোধন সঙ্গীত ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেবো’ পরিবেশন করেন পরিষদের শিল্পীরা। পরে ত্রপা মজুমদারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উদ্বোধক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিলি ইসলাম এবং সহসভাপতি বুলবুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি মফিদুল হক।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সভ্যতা যদি পিতৃতান্ত্রিক হয়, তবে সংস্কৃতি মায়ের মতো স্নেহ ও লালন করে। তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ তার জীবনে সভ্যতার নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। তাঁর মতে, ঔপনিবেশিক শক্তি সবসময় সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে চায়, কারণ সংস্কৃতি ধ্বংস হলে মানুষ রাজনৈতিকভাবে পরাধীন হতে বাধ্য হয়।
তিনি বর্তমান সময়ের প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থান এবং বুর্জোয়া শাসকদের সংস্কৃতি বিরোধী অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের গানকে তিনি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষকে মানবিকতা রক্ষা করতে হলে সামাজিক মালিকানার ভিত্তিতে নতুন সমাজ গঠন প্রয়োজন। একইসঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের দাবিকে তিনি সংস্কৃতি ও মানবিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান বলে মন্তব্য করেন।
সাধারণ সম্পাদক লিলি ইসলাম বলেন, মূল্যবোধের অবক্ষয়ের সময়ে সংস্কৃতিই মানুষের পথ দেখায় এবং বৈশ্বিক সংকটের সময় নিজের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। সভাপতি মফিদুল হক বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংগীতকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে এবং এ বিষয়ে সামাজিক দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে সন্ধ্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনায় রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করা হয়। এবারের আয়োজনে সারাদেশ থেকে প্রায় সাত শতাধিক শিল্পী অংশ নিচ্ছেন। দুইদিনব্যাপী এই সম্মেলন শনিবার (১১ এপ্রিল) শেষ হবে।
পড়ুন- সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
দেখুন- ভেঙে যাচ্ছে যুদ্ধবিরতি, ফের হা/ম/লা/র হুঁশিয়ারি ইরানের! |


