চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে হত্যা, চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জনসচেতনতা বাড়াতে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে চক্রবাক ক্লাব। সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার ও স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
গতকাল রাতে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের পাক্কা মসজিদ সরকারি বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি আনিসুর রহমান তৈমুর এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম। আরো উপস্থিত উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমাম হোসেন ফারুক, সহ-সভাপতি আলী হাসান এবং কার্যকরী সদস্য আশরাফ উদ্দীন সালাম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দিদারুল ইসলাম মাহমুদসহ ক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, পৃষ্ঠপোষক সদস্য, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসর্দার, মসজিদ কমিটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন বাসাবাড়ির মালিক, সাম্প্রতিক চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমাজে অপরাধ দমনে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা যথেষ্ট নয়, বরং সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। তারা রাতের বেলা পাহারা জোরদার করা, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করা এবং নিজ নিজ এলাকায় সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের একার পক্ষে সব অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়, এজন্য জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি জানান, সীতাকুণ্ডে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং যেকোনো অপরাধের তথ্য পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় আরও বলা হয়, এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখা, এবং পাড়া-মহল্লাভিত্তিক নজরদারি বাড়ানোর মাধ্যমে অপরাধ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে সবাই একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা।
পড়ুন- ইরানের সঙ্গে আলোচনার আগে ট্রাম্পের কণ্ঠে ‘সতর্ক আশাবাদ’


