বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বন্যার্তদের জন্য নির্মিত আশ্রয়কেন্দ্র ব্যক্তিগত গেস্টরুম হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে নির্মিত তিনতলা আশ্রয়কেন্দ্রটি মূলত বন্যাকালে চরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অস্থায়ী আশ্রয়ের জন্য ব্যবহারের কথা। তবে বর্তমানে এর একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আশ্রয়কেন্দ্রটি কলেজের প্রয়োজনে ব্যবহার করা গেলেও সেটিকে ব্যক্তিগত বাসস্থানের মতো ব্যবহার করা অনুচিত। তাদের অভিযোগ, সেখানে এসি স্থাপনসহ দামী আসবাবপত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সরকারি অর্থে কেনা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের তৃতীয় তলার অর্ধেকের বেশি জায়গা বিলাসবহুল কক্ষে রূপান্তর করা হয়েছে। কিছু কক্ষে অতিরিক্ত দেয়াল তুলে আলাদা কক্ষ তৈরি করা হয়েছে এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের উপযোগী করে সাজানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ সোলায়মান হোসেন বলেন, কলেজের প্রয়োজনে গেস্টরুম হিসেবে মাঝে মাঝে এখানে অবস্থান করতে হয়। এটি ব্যক্তিগত বাসা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) দেখতে বলা হয়েছে। সেটি হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী বন্যা ছাড়া অন্য সময়ে আশ্রয়কেন্দ্রটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে ব্যবহার করা গেলেও এর নকশা বা অবকাঠামো পরিবর্তনের সুযোগ নেই।


