নেত্রকোনার মদনে আপন চাচীর সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে অন্তরঙ্গ ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে তারেক মিয়া (১৮) নামে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকালে মদন পৌর শহরের হাজী বিরিয়ানী হাউজে টাকা নিতে আসলে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটক তারেক মিয়া উপজেলার খাগুরিয়া পশ্চিম পাড়া গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে এবং ভুক্তভোগী ওই নারীর আপন ভাসুরের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকেন। এ সুযোগে আপন ভাসুরের ছেলে তারেক মিয়ার সাথে তার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ভাতিজা তারেক গোপনে ও চাচীর মোবাইল থেকে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের বেশ কিছু ছবি নিজের কাছে সংগ্রহ করে রাখে।
পরবর্তীতে চাচী অনৈতিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে বাধে বিপত্তি। ভাতিজা তারেক ওই অন্তরঙ্গ ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাচীকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে। মানসম্মানের ভয়ে বাধ্য হয়ে চাচী আরও কয়েকবার তার সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। শুধু তাই নয়, ছবির ভয় দেখিয়ে তারেক পর্যায়ক্রমে চাচীর কাছ থেকে নগদ দুই লক্ষ টাকা এবং দুই ভরি স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তারেক চাচীর কাছে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। অতিষ্ঠ হয়ে চাচী বিষয়টি সুকৌশলে পুলিশকে জানান এবং তারেককে ধরার জন্য ফাঁদ পাতেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার বিকালে টাকা দেওয়ার কথা বলে তিনি তারেককে মদন পৌর শহরের হাজী বিরিয়ানী হাউজে আসতে বলেন। সেখানে আগে থেকেই সাদা পোশাকে পুলিশ অবস্থান করছিল। তারেক রেস্তোরাঁয় এসে চাচীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় পুলিশ তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।
হাজী বিরিয়ানী হাউজের ম্যানেজার মাসুদ মিয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, “বিকালে একজন মহিলা আমাদের রেস্টুরেন্টে এসে বসেন। কিছুক্ষণ পর একটি ছেলে সেখানে আসে। আরও কিছুক্ষণ পর হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে ছেলেটিকে কিল-ঘুষি মারতে মারতে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়।”
ভুক্তভোগী চাচী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমার মোবাইল থেকে ছবি নিয়ে তারেক আমাকে প্রতিনিয়ত ব্ল্যাকমেইল করছিল। সে ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে অনেক টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়েছে। আবারও টাকা নিতে আসলে সে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।”
আটক তারেক মিয়া পরকীয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা ও স্বর্ণালংকার নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “চাচীর সাথে আমার গত দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক আছে, এটা সত্যি। কিন্তু আমি কোনো টাকা বা স্বর্ণালংকার নিইনি। এমন অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
এ বিষয়ে মদন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম রসুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতেই হাজী বিরিয়ানী হাউজে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে অভিযুক্ত ভাতিজাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
পড়ুন- পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর একটি দল যুদ্ধবিমান নিয়ে সৌদি আরবে
দেখুন- মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করলেন শেহবাজ শরীফ


