বিজ্ঞাপন

ঈশ্বরদী থানার ওসির বিরুদ্ধে মানুষ নির্যাতন ও আটক করে জেল হাজতে প্রেরণের অভিযোগ

সিভিল পোশাকে স্ত্রী, সন্তানকে ট্রেনে তুলে দিয়ে গিয়ে রেলওয়ে স্টেশনে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনায় দোকানীসহ তিনজনকে ধরে এনে ৯ ঘন্টা যাবত আটকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিনের নামে।

বিজ্ঞাপন

গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে এমনই ঘটনা ঘটেছে পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশন ও ঈশ্বরদী থানায়।

থানা হাজত থেকে ওসি তদন্তের কক্ষে এনে তিন দফায় বেদম প্রহার করা শ্রী বটেশ্বর আগরওয়াল বিটু (৩৮) নামক এক ব্যক্তিকে। প্রহারে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে বিটুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। আর আটক অপর দুইজন সেলিম ও জুলমতকে লিখিত মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা চলছে। সৃষ্টি হয়েছে নানা রকম প্রশ্নের।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনের উপর অবস্থিত অস্থায়ী দোকান থেকে চিপস কেনা নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে দোকানির কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায় এক কম্পানির পণ্য বিতরণকারী শ্রী বটেশ্বর আগওয়াল বিটুর সঙ্গে ওই ব্যক্তির হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর ওই ব্যক্তির সঙ্গে এক মহিলা ও সন্তানকে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন। তিনি নিজেকে ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিন পরিচয় দেন। তারপর ওই দোকানের কর্মচারী জুলমতকে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের সদস্যরা আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে বিটুর দোকানে গিয়ে তাকে আটক করে মারপিট করতে থাকে। একই সময় দোকানি সেলিমকে ডেকে এনে তাকেও আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সিভিল পোশাকে থানার তদন্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিনের জনসাধারণের সঙ্গে বাগবিতন্ডাসহ হাতাহাতিতে জড়ানো ঠিক হয়নি। এতে তার পরিচয় না জানার কারণেই ভুল বসত অনাকাঙ্খিত এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনজনকে আটক করে ৯ ঘন্টা যাবত থানা হাজতে আটকিয়ে রাখা এবং বিটু আগওয়ালাকে তিন দফা মারপিট করে অসুস্থ্য করে আদালতে প্রেরন করাটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

চিপস দোকানের মালিক সেলিম জানান, ঘটনার সময় তিনি দোকানে ছিলেন না। দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে পাশের দোকানি ফোন করে দোকানে ডাকে। দোকানে পেঁৗছানো মাত্র থানা পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ৯ ঘন্টা থানার হাজতে তাদের আটকিয়ে রাখা হয়। পরে কর্মচারী জুলমতসহ তার নিকট থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিন জানান, রেলওয়ে স্টেশনে অভিযানে গিয়ে দোকানের মালামাল সরিয়ে রাখতে বলায় তাদের সঙ্গে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তিনি বাদী হয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বাকিটি রেলওয়ে থানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানতে বলে কথা শেষ করেন।

এ ব্যপারে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, ঘটনাটি রেলস্টেশনে হওয়ায় রেলওয়ে থানাতে মামলা হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ আসামিকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান জানান, এই ঘটনায় ঈশ্বরদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে শ্রী বটেশ্বর আগরওয়ালা বিটুকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। বিটুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

পড়ুন- হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল আরও ১০ শিশুর

দেখুন- মানুষের বাচ্চা কখনও কোলে নেন না রাখি-কেন? 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন