বিজ্ঞাপন

সাক্ষীদের অজান্তেই মামলায় নাম! প্রতিবাদে দুর্গাপুরে সংবাদ সম্মেলন

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় সম্মতি ছাড়াই ছয়জনকে সাক্ষী করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির বহিষ্কৃত সভাপতি কলি হাসানের দায়ের করা হয়রানিমূলক ও ভিত্তিহীন মামলার প্রেক্ষিতে প্রতিবাদ জানানো হয়।

শনিবার রাতে দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির সদস্য সচিব সৈকত সরকার। তিনি বলেন, দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির বহিষ্কৃত সভাপতি কলি হাসান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গত ৫ মার্চ নেত্রকোনা দ্রুত বিচার আদালতে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়ের করা হয়েছে দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির তিন সম্মানিত সাংবাদিক- সজীম শাইন, পলাশ সাহা এবং মামুন রণবীরের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ওই মামলায় যে সমস্ত অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এ মিথ্যা মামলাটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে বাদী কলি হাসান ছয়জন ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যাদের কেউই এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র অবগত ছিলেন না। এই ছয় জন সাক্ষী হলেন- রাজেশ গৌড়, সৈকত সরকার, মোরশেদ আলম, ডা. মো. আলী উসমান, মো. জালাল উদ্দিন এবং তরিকুল ইসলাম।

এদের মধ্যে রাজেশ গৌড়, সৈকত সরকার, মোরশেদ আলম এবং ডা. মো. আলী উসমান দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির সদস্য। মো. জালাল উদ্দিন সাংবাদিক সমিতির স্টাফ হিসেবে কর্মরত এবং তরিকুল ইসলাম দুর্গাপুরের স্থানীয় এক সাংবাদিক।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, কলি হাসান এই মামলায় সাক্ষী করার বিষয়ে ওই ছয়জনের কারো সাথেই কোনো আলোচনা করেননি এবং তাদের কোনো মতামত বা সম্মতি নেননি। তিনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছেমতো ও বেআইনিভাবে সাক্ষীগণের নাম ব্যবহার করেছেন। পরবর্তীতে মামলার কপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়টি জানতে পেরে সাক্ষীরা চরম বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, যেহেতু মামলায় উল্লেখিত বিষয়গুলো সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন এবং সাক্ষীগণের অনুমতি ছাড়াই তাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তাই পুরো বিষয়টি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। স্পষ্টতই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির সম্মান ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার হীন প্রয়াস। এর পেছনে কলি হাসানের অসৎ ও দুরভিসন্ধিমূলক পরিকল্পনা রয়েছে বলে সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন।

পরিশেষে, সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উপস্থিত সাংবাদিক ও সাক্ষীরা বিষয়টি প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষকে অবগত করেন এবং কলি হাসান কর্তৃক দায়েরকৃত এ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় অবৈধভাবে ছয়জনকে সাক্ষী করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জোর প্রতিবাদ জানান। একইসাথে হয়রানিমূলক এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মাদারীপুরে চলন্ত বাসে অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ২৫ যাত্রী- নিহত-১

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন