বিজ্ঞাপন

নিজস্ব ভবন ও জনবল সংকটে নেত্রকোনা রেজিস্ট্রি ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস

নেত্রকোনা জেলায় জমি ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। একদিকে জেলা রেজিস্ট্রার ও সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নিজস্ব কোনো জায়গা বা ভবন নেই, অন্যদিকে জেলার তিনটি উপজেলায় টানা এক বছর ধরে সাব-রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য। জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং জনবল সংকটে দৈনন্দিন কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিজস্ব ভবনের অভাবে নেত্রকোনা জেলা রেজিস্ট্রার ও সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে পুরাতন জজ কোর্টের একটি পরিত্যক্ত ভবনে। পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নকলনবিশদের স্যাঁতসেঁতে ও ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে বসে কাজ করতে হচ্ছে।

রেকর্ড রুমে পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় র‍্যাকের তীব্র সংকট রয়েছে। র‍্যাক না থাকায় বাধ্য হয়ে হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ বালাম বই মেঝেতে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বর্ষাকালে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং ভেন্টিলেটর ও জানালা দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করায় মেঝেতে থাকা অনেক মূল্যবান বালাম বই নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে, জায়গার অভাবে দলিল লেখক ও তল্লাশিকারকরা বাধ্য হয়ে ভবনের বারান্দায় গাদাগাদি পরিবেশে বসে কাজ করছেন।

জেলার কেন্দুয়া, বারহাট্টা ও খালিয়াজুরী- এই তিন উপজেলায় দীর্ঘ এক বছর ধরে কোনো সাব-রেজিস্ট্রার নেই। সম্প্রতি আরও দুজন সাব-রেজিস্ট্রার দুই মাসের জন্য প্রশিক্ষণে যাওয়ায় সংকট আরও চরম আকার ধারণ করেছে। বাধ্য হয়ে একজন সাব-রেজিস্ট্রারকে সপ্তাহে একাধিক উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য রীতিমতো হিমশিম খাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু সাব-রেজিস্ট্রারই নন, নেত্রকোনা সদর, বারহাট্টা, কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জ ও পূর্বধলা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কোনো পিয়ন নেই। এমনকি আজ পর্যন্ত রেকর্ড রুমেও কোনো পিয়ন নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্রতিদিন শত শত মানুষ জমি ক্রয়-বিক্রয়, দলিল রেজিস্ট্রেশন এবং সার্টিফাইড বা নকল কপি তুলতে এসে জনবল সংকটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকছেন।

ভবনগুলোর আশেপাশে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে দলিল লেখক সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু বলেন, “নিজস্ব জায়গা ও ভবন না থাকায় আমাদেরকে বারান্দায় প্রচণ্ড গরমে গাদাগাদি করে কাজ করতে হয়। বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে ভিজতে হয়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই অফিসের সামনে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, যা দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।”

সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রোমানা আক্তার লোপা জানান, “প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত নারী-পুরুষ এখানে জমি রেজিস্ট্রি করতে আসেন। কিন্তু এখানে কোনো পাবলিক টয়লেট না থাকায় আগত সেবাপ্রার্থীদের, বিশেষ করে নারীদের প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে চরম বিপাকে ও লজ্জায় পড়তে হয়।”

সার্বিক বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল খালেকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্যাগুলোর সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি প্রতি চার মাস পর পর বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিস পরিদর্শন করি। যেসব সমস্যা পেয়েছি, তা দ্রুত নিরসনের জন্য নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকসহ (আইজিআর) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নিয়মিত অনুরোধ জানিয়ে আসছি।”

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি জেলা রেজিস্ট্রার ও সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের জন্য জেলা শহরের বনুয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের পর দ্রুত সেখানে নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে সেবাপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের দুর্ভোগ বহুলাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পড়ুন:নববর্ষে মেট্রোরেল চলাচল নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

দেখুন:৫৫ বছর আগে বাংলাদেশে আসা বীর বাহাদুর অবশেষে ফিরে গেলেন

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন