পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস এখন অস্থিরতার তুঙ্গে। কোম্পানির ভেতর চলছে পরিচালক ও প্রভাবশালী শেয়ারহোল্ডারদের তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব। একদিকে বোর্ড পুন:গঠনের চেষ্টা, অন্যদিকে স্বাধীন পরিচালকের বিরুদ্ধে রয়েছে অর্থ আত্মসাৎ ও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত। অন্যদিকে কমিশন বলছে, তদন্তের পর সিদ্ধান্ত।
বিএসইসির আইন অনুযায়ী, কোম্পানির স্বাধীন পরিচালক হতে গেলে কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা যাবে না। এছাড়া কোনো পরিচালকের আত্মীয় স্বজনও হতে পারবেন না স্বতন্ত্র পরিচালক।
কিন্তু সেই আইনের তোয়াক্কা না করেই মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের স্বাধীন পরিচালক হয়েছেন কোম্পানিটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা.জুনায়েদ শফিকের খালাতো বোন সাইকা মাজেদ। ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান সুইফট লিংক সলিউশনের করেছেন বিধিবহির্ভূত ব্যবসা। তার বিরুদ্ধে কমিশনে জমা পড়েছে অভিযোগের পাহাড়।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশন গত ৪ মার্চ নতুন স্বাধীন পরিচালকের আবেদন জমা দিতে কোম্পানিকে চিঠি ইস্যু করে। কিন্তু একদিন পরই কমিশন সেই চিঠি অবৈধ ও অকার্যকর জানিয়ে অন্য আরেকটি চিঠি ইস্যু করে। কেন সেই ৪ তারিখের চিঠিটি অবৈধ বলা হলো, সেই রহস্য এখুনি উন্মোচন করছি না। তবে জনশ্রুতি রয়েছে, বিএসইসির বর্তমান একজন কমিশনার সাইকা মাজেদের খুব ঘনিষ্ট।
এদিকে আইন ভঙ্গ করে কোম্পানির স্বাধীন পরিচালকের দায়িত্ব পালন কিভাবে করছেন সে বিষয় কিছু না বললেও সাইকা মাজেদ নাগরিককে জানান, ”কোম্পানির অভ্যন্তরীণ বিষয় তদন্ত করছে বিএসইসি, মামলাও হয়েছে। কমিশন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সেটির কাজের অংশ হিসেবে তারা আমাদের প্রত্যেককে চিঠি দিয়েছে। এছাড়া বেআইনীভাবে কোম্পানির আইন না মেনে চেয়ারম্যানের পদ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা আদালতেও গিয়েছি।”
এদিকে দখলদ্বারিত্ব ও ক্ষমতার পালাবদলের আগে তালিকাভুক্ত নাভানা ফার্মার শেয়ার দর ছিলো ১০০ টাকার ওপরে। পরিচালকদের পরষ্পর রেষারেষিতে পুঁজিবাজারে তৈরি হয় আস্থার সংকট। এতে শেয়ার দর নেমে আসে অর্ধেকে, ক্ষতিগ্রস্ত হন বিনিয়োগকারীরা। তাই অনতিবিলম্বে চলমান সংঘাতের অবসান চান ভুক্তভোগিরা।
এ ব্যাপারে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি রুহুল আমিন আকন্দ জানান, সাইকা মাজেদ আইন লঙ্ঘন করে কোম্পানির অনেক বড় ক্ষতি করেছে। সাবেক এমডির ছত্রছায়ায় অর্থ আত্মসাৎতেরও অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে শেয়ার দর কমে যাওয়ায় আমরা বিনিয়োগকারীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত। নাভানা ফার্মা অনেক ভালো কোম্পানি। তারা বিপুল পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করে কোম্পানিকে ভালো অবস্থানে নিচ্ছে। কিন্তু একটি দুষ্টচক্র কোম্পানিকে নষ্ট করার পায়তারা করছে। এ ব্যাপারে কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ জটিলতা চলমান, বিনিয়োগকারীরাও হতাশায়। এ অবস্থায় কমিশন কী করছে সে বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম নাগরিককে জানান, যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন, তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত মতামত দেয়া কঠিন। তবে আমরা জানিয়ে রাখতে চাই, তদন্ত শেষে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় স্বচ্ছতা সবচেয়ে জরুরি। তাই সঠিক তদন্তে, দ্রুতই পদক্ষেপ নেবে কমিশন-এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
পুরো নিউজটি দেখুন:
নারী পরিচালককে কেন্দ্র করে নাভানায় হচ্ছেটা কী? কোথায় যাচ্ছে ভবিষ্যৎ?


