বিজ্ঞাপন

কোম্পানির নির্ভরতা কাটাতে নিজেদের বীজ সংরক্ষণে নেত্রকোনার কৃষকরা

‘কৃষকের বীজ কৃষকের সম্পদ’- এই চিরন্তন সত্যটি কালের আবর্তনে হারাতে বসেছিল। কৃষকের নিজস্ব গোলাঘর থেকে বীজ স্থান পেয়েছিল বাণিজ্যিক কোম্পানির প্যাকেটে। ফলে মৌসুম এলেই বীজের জন্য ডিলারদের দ্বারে দ্বারে হন্যে হয়ে ঘুরতে হতো কৃষকদের। কৃষকদের দীর্ঘদিনের বীজ সমস্যা সমাধান এবং হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্থানীয় ধান জাত গবেষণা মাঠ দিবস’।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামে এই মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনী প্লটে চাষ করা ৪৪টি স্থানীয় জাতের বোরো ধানের মধ্য থেকে ফলন ও গুণগত মানের ভিত্তিতে নয়টি জাত বেছে নিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

তুষাইপাড়ের কৃষক সংগঠন এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’ এর যৌথ উদ্যোগে ২০০৫ সাল থেকে কৃষক নেতৃত্বে এলাকা-উপযোগী ধানের স্থানীয় জাত বাছাইয়ের এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

চলতি বোরো মৌসুমে একই জমিতে ৪৪টি স্থানীয় ধানের জাত চাষ করেন কৃষক সংগঠনের সদস্যরা। উল্লেখযোগ্য জাতগুলোর মধ্যে ছিল- রাতা, বাঁশমতি, বৈরাগী, লাফা, লালমোটা, গোলটেপি, গোলইরি, ডিএস-৯, ডিএস-৩, টাইফ, গাজি, ঝাপিবোরো, গাজর, কোনাল বোরো, বাইগুনবিচি, সাদাবোরো, আমবোরো, পারিজা, আতাশাইল, বর্গাবোরো ইত্যাদি।

মাঠ দিবসে নেত্রকোনা জেলার মদন, আটপাড়া, নেত্রকোনা সদর এবং কেন্দুয়া উপজেলা থেকে ২৫ জন আগ্রহী কৃষক অংশগ্রহণ করেন। তারা সরেজমিনে গবেষণা প্লট পরিদর্শন করেন। ফলন বেশি, রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম, আগাম ফলন এবং ধানের গাঁথুনি ভালো- মূলত এসব বৈশিষ্ট্যগুলোর ওপর ভিত্তি করে কৃষকরা পরবর্তী মৌসুমে চাষাবাদের জন্য নয়টি জাত চূড়ান্তভাবে বাছাই করেন।

মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা সদরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, বারসিকের কৃষিবিদ ঝুটন পাল ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অহিদুর রহমানসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বীজ সংরক্ষণের বিষয়ে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়ে কৃষক মানিক মিয়া বলেন, “এই বাছাইকৃত জাতগুলো আগামী বছর আমি আমার নিজের জমিতে চাষ করবো। কোম্পানির ওপর আর নির্ভর করবো না, আমাদের বীজ আমরা আমাদের কাছেই রাখবো।”

উল্লেখ্য, নেত্রকোনা অঞ্চলের কৃষকরা নিজেদের অধিকার ও ঐতিহ্য রক্ষায় এ পর্যন্ত আমন, বোরো এবং আউশ মৌসুমে সর্বমোট ৬৮টি স্থানীয় জাতের ধান বাছাই করে সফলভাবে চাষাবাদ করে আসছেন, যা দেশের কৃষি খাতে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : আগামীতে নির্বাচন করব কিনা প্রশ্ন জেগেছে, দুর্নীতিতে ক্ষুব্ধ ডেপুটি স্পিকার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন