জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার একসময়ের বিদ্যাপীঠ পরিদর্শন করে শিক্ষকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না পেয়ে তিনি নিজ উদ্যোগেই সেখানে উপস্থিত হন এবং শিক্ষকদের দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা প্রত্যাখ্যান করেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার পর শিক্ষকরা ফুল দিয়ে সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকারকে বরণ করতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু তিনি সেই ফুল নিতে অস্বীকৃতি জানান। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি অপেক্ষা করছিলাম দেখি স্কুল থেকে আমাকে ডাকে কি না। কেউ ডাকে নাই। আমি নিজেই প্রোগ্রাম দিয়েছি। অতএব, আপনারা আমাকে পাননি, আমিই আপনাদের কাছে আসছি।”
পরে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বসেন ডেপুটি স্পিকার। সেখানে তিনি বিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক বিষয়াদি নিয়ে খোঁজ নেন। বিদ্যালয়ে ২৮ জন শিক্ষকের পদের বিপরীতে মাত্র ১৫ জন কর্মরত থাকার কথা জেনে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে ‘ভারপ্রাপ্ত’ প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনার বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। পদ শূন্য থাকার পরও কেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে স্থায়ী নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়নি, সে বিষয়ে শিক্ষকদের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন রাখেন তিনি।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিজেই এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তাকে না জানিয়েই নিজেদের দাবি-দাওয়া বা ডিমান্ড নোটিশ সরাসরি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোয় তিনি উষ্মা প্রকাশ করেন।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা কি মনে করেন না যে, এই এলাকায় একজন এমপি আছেন? আমি ১৭ তারিখ শপথ নিলাম, আর আপনারা আমাকে না জানিয়েই ডিমান্ড নোটিশ পাঠিয়ে দিলেন!” গণতান্ত্রিক সরকার ও নির্বাচিত প্রতিনিধির সাথে সমন্বয় না করার সমালোচনা করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “আপনারা ফুল নিয়ে বাড়িতে চলে যান। আমি সেই ধরনের এমপি নই।”
সমালোচনার পাশাপাশি শিক্ষকদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধির দিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার। শিক্ষকদের মেরুদণ্ড সোজা রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের মানসিকতার আগে পরিবর্তন আনতে হবে। আপনারা নিজেদেরকে শিক্ষক হিসেবে ভাবুন। কোনো দলীয় নেতা বা দলের কাছে ধর্না দিতে হবে না।”
শিক্ষকতা পেশাকে সমাজের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তা বা চিকিৎসকের চেয়েও শিক্ষকের সম্মান অনেক বেশি। নিজেদের পেশার প্রতি সম্মান জানান। আপনাদের আমার কাছে আসতে হবে না, নিজেদের সম্মান নিজেদেরকেই তৈরি করতে হবে।”
তার এমন স্পষ্ট ও কড়া বক্তব্যের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উপস্থিত অন্যান্যদের মাঝে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। স্থানীয়রা মনে করছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির এমন দায়িত্বশীল অথচ কঠোর অবস্থান এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ফেরাতে সাহায্য করবে।
পড়ুন- ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার
দেখুন- ইরানের দুর্ধর্ষ অভিযানে মার্কিন জাহাজ জব্দ! ওয়াশিংটনে তোলপাড়!


