চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা প্রেসক্লাবে মাদক চক্রের নৃশংস তাণ্ডব চালিয়েছে। এসময় তারা ক্লাবের লাইট বন্ধ করে সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম করে তার মোবাইল ভাঙচুর করেছে।
শুধু তাই নয়, হামলাকারীরা লাইট বন্ধ করে পরিকল্পিতভাবে ভেতরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে যা পুরো ঘটনাকে আরও ভয়াবহ ও রহস্যজনক করে তুলেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে দর্শনা পৌর এলাকার আজিমপুর গ্রামের আতর আলীর ছেলে চঞ্চলসহ কয়েকজন চিহ্নিত মাদককারবারি দর্শনা প্রেসক্লাবের আশেপাশে ঘোরাফেরা করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা প্রকাশ্যে উলঙ্গ হয়ে প্রেসক্লাবের দেয়ালে প্রসাব করে এবং সেখানে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে চরম অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এমন ঘৃণ্য আচরণে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এ সময় প্রেসক্লাবের অফিস সহকারী আব্বাস আলী বিষয়টি দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হান্নানকে জানালে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। সাংবাদিক হান্নান প্রতিবাদ করতেই মাদককারবারি চঞ্চল ক্ষিপ্ত হয়ে হান্নানের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং তার মাথায় আঘাত করে। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলে হান্নান প্রাণ বাচাতে প্রেসক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নেন।
কিন্তু সেখানেও শেষ রক্ষা হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই চঞ্চলের নেতৃত্বে আরও ১০-১২ জনের একটি দল জোরপূর্বক প্রেসক্লাবের ভেতরে প্রবেশ করে লাইট বন্ধ করে দেয় এবং অন্ধকারের মধ্যে হান্নানের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। তাকে মারধর করার পাশাপাশি তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয়। এ সময় পুরো প্রেসক্লাব এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানসহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত হন। পুলিশ সাংবাদিকদের লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দিয়েছে এবং জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় দর্শনা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন। এতে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু, সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা ক্ষোভে বলেন, দর্শনা প্রেসক্লাব কোনো সাধারণ স্থান নয় এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার দুর্গ। সেখানে ঢুকে মাদক কারবারিদের এভাবে তাণ্ডব চালানো সরাসরি গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি দেখানোর শামিল। এটি নিছক ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা। এর পেছনে আরও বড় কোনো চক্র সক্রিয় থাকতে পারে।
তারা প্রশাসনপর উদ্দেশ্যে বলেন, এই হামলার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ রাজপথে নেমে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের বর্বরতা সহ্য করা হবে না।
স্থানীয় সচেতন মহলও ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, প্রেসক্লাবের মতো জায়গা যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? মাদক কারবারিরা যে মাত্রায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, তা সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এ বিষয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন তার বক্তব্যে বলেন,
দর্শনা প্রেসক্লাবে এই ন্যাক্কারজনক ও পরিকল্পিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয় এটি পুরো গণমাধ্যম ও সত্যের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা। আমরা ইতোমধ্যে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং প্রশাসনের কাছে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের জোর দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, যদি দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট জিরো টলারেন্স।
পড়ুন- ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরে: শিক্ষামন্ত্রী
দেখুন- ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বৈঠক নিয়ে ধোঁয়াশা


