নরসিংদীতে প্রেমঘটিত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক প্রেমিককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। একই ঘটনার জেরে এক প্রেমিকার বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি ঘরে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। রোববার রাতে সদর উপজেলার মাধবদী পৌর শহরের খনমুর্দ্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একে প্রেমিক সাজ্জাদকে কুপিয়ে আহতের ঘটনায় মাধবদী থানায় মামলা হলে আল-আমিন (২৮) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আল-আমিন খনমুর্দ্দি এলাকার আমির হোসেন এর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার মাহতাব ভূইয়ার ছেলে সাজ্জাদ ভূইয়া (২২) নামে এক তরুণের সঙ্গে একই এলাকার ১৮ বছর বয়সি এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। স্থানীয়ভাবে দুইবার সালিশ হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। কিন্তু এর জেরে রোববার বিকালে তরুণীর লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাজ্জাদকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ছেলে পক্ষের শত শত নারী-পুরুষ নরসিংদী-টু-মদনগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ওই তরুণীর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়, এতে চার কক্ষ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এরপর তুরণীর দুই চাচা ও ফুফু সহ আরও কয়েকটি ঘরে আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে অন্তত তিনটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছেন মাধবদী বাজার ফায়ার সার্ভিস।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পরিবারের বিরোধের কারণে পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে উত্তপ্ত ছিল। সাজ্জাদকে আহত করার খবর পাওয়ার পর রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আগুন পাশের বাড়িগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। অল্পের জন্য অন্যান্য বাড়ি গুলো রক্ষা পায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, তরুণীর বাবা ডাক্তার আমির হোসেন, চাচা আবু সিদ্দিক ও ফুফু লায়লার বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং পেট্রোল দিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে ডাক্তার আমিরের একতলা পাকা ভবন ও টিনশেড ঘরের আসবাবপত্রসহ মালামাল পুড়ে যায়।
এদিকে আহত সাজ্জাদ হোসেনকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তার স্বজনরা। সাজ্জাদ হোসেনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় রোববার গভীর রাতে এজাহারনামীয় আসামি মো: আল-আমিন (২৮) নামে একজনকে নরসিংদীর শিবপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. রায়হান জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ঘিরে ফেলে এবং তাদের বের হতে বাধা দেয়। এ সময় পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজীব শাহরীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি বলেন, আগুন লাগানোর ঘটনায় কারা জড়িত তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রেমসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
পড়ুন- রাশিয়ায় পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, হবে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক


