বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভায় গাংনী সাব-রেজিস্টারের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ

মেহেরপুরের গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস যেন পরিণত হয়েছে অনিয়ম, দুর্নীতি আর হয়রানির অভয়ারণ্যে—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে সাব-রেজিস্টার নাইমা ইসলামের বিরুদ্ধে। তার অপসারণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বিজ্ঞাপন


সোমবার দুপুরে গাংনী উপজেলা পরিষদ হলরুমে নবাগত জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একের পর এক অভিযোগ তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। 


সভায় সভাপতিত্ব করেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন।


বক্তারা বলেন, সাব-রেজিস্টার নাইমা ইসলাম যোগদানের পর থেকেই অফিসে বেড়েছে দুর্নীতির দৌরাত্ম্য। সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা পেতে হলে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা, না হলে হয়রানি যেন অবধারিত।
বাঁশবাড়িয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন অভিযোগ করে বলেন, কমিশন রেজিস্ট্রি বন্ধ রয়েছে, এছাড়া ওয়ারিশ সনদ রেজিস্ট্রি থেকে শুরু করে ফাইলিং সবখানেই নির্ধারিত ফি এর বাইরে হাজার হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। টাকা ছাড়া কোনো কাজই হয় না। সাব রেজিস্ট্রি অফিস এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
গাংনী উপজেলা জামায়াতের নেতা ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
সাংবাদিক জুলফিকার আলী কানন বলেন, সাব-রেজিস্টার ইচ্ছেমতো অফিস করেন। দলিলে সামান্য ভুল দেখিয়ে ফাইল আটকে রেখে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এটি এক ধরনের প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। এছাড়া ফাইলিং এর নামে অতিরিক্ত অর্থ হাতে নেওয়া হচ্ছে।
আরেক সাংবাদিক ফারুক আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের জিম্মি করে অর্থ বাণিজ্য করছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তার ফাইল দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়। এটি এক ধরনের নির্যাতন।


গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লিটন মাহমুদ বলেন, সাব রেজিস্টার নাঈম ইসলাম যোগদান করার পর থেকে এই অফিসে দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন হয় ফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি সেবা পাচ্ছে না। ফাইলিং সহ ছোটখাটো ত্রুটি বিচ্রুটি ধরে প্রতি সপ্তাহে অন্তত কয়েক লাখ টাকা আয় করছে সাব রেজিস্টার নাইমা ইসলাম। কর্মস্থল গাংনী এরিয়ায় সরকারি বিধি মোতাবেক থাকার কথা থাকলেও প্রতিদিন মাইক্রোবাস যোগে কুষ্টিয়া কুমারখালী খোকসা এলাকার নিজ বাড়িতে থেকে যাতায়াত করেন।
শিশিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফজলুর রহমান বলেন, একটি দলিল করতে গিয়ে আমাদেরকে বারবার ঘুরতে হয়। প্রতিটি ধাপে টাকা দিতে হয়। এই হয়রানি থেকে আমরা মুক্তি চাই।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তারা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এবিষয়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় অভিযোগগুলো অতি গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।


অভিযোগের বিষয় জানতে গাংনী উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার নাঈমা ইসলামকে ফোনে দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য : সাব-রেজিস্ট্রার নাইমা ইসলাম গাংনীতে প্রথম যোগদান করেই লুটপাট শুরু করে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

পড়ুন- নারীদের ‘এলপিজি কার্ড’ দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেখুন- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপির শ্রদ্ধা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন