বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক ক্ষমতায় চলছে অবৈধ ভাবে পুকুর খনন ও মাটির ব্যবসা

রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় অভিনব কায়দায় চলছে অবৈধ ভাবে পুকুর খনন। পুকুর সিন্ডিকেট সরকারী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই দেদারছে অবৈধ ভাবে পুকুর খনন এবং ওই মাটি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ইটের ভাটায়। স্থানীয় কৃষক ও সচেতন নাগরীকদের অভিযোগ সরকারী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে পুকুর খনন কার্যক্রম। বিগত সরকারের সময়ে যা হয়েছে বর্তমান তার কোন ব্যতিক্রম নেই শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার বদল হয়েছে। প্রশাসন বলছে, প্রতিনিয়ত পুকুর খনন বন্ধের অভিযান চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে জেলার ৯টি উপজেলায় মোট সরকারী পুকুরের সংখ্যা ৬৯৪১০টি এবং বেসরকারী পুকুরের সংখ্যা ৬৯৪১০টি। যার মধ্যে পবা উপজেলা সরকারী পুকুরের সংখ্যা ৫৮টি এবং বেসরকারী পুকুর ৯৪৫৪টি, পুঠিয়াতে ১৯৭টি সরকারী পুকুর এবং বেসরকারী ৯৪৯২টি, মোহপুরে ৩৫০টি এবং ৫৬৬৪টি পুকুর, চারঘাটে ২৭টি এবং বেসরকারী ৪৪২১টি, গোদাগাড়ীতে সরকারী পুকুর আছে ৩০৬৭টি এবং বেসরকারী পুকুর রয়েছে ৫৩১৩টি, বাগমারা উপজেলায় সরকারী পুকুরের সংখ্যা ৮৮০টি এবং ১২৫৮৬টি বেসরকারী পুকুর আছে, দূর্গাপুরে ৩৯০টি সরকারী পুকুর এবং ৮৭২৪টি বেসরকারী পুকুর, তানোর উপজেলায় সরকারী পুকুর আছে ৯৫৯টি এবং বেসরকারী পুুকুর আছে ৮২৪২টি এবং বাঘা উপজেলায় সরকারী পুকুরের সংখ্যা ৫৯টি এবং বেসরকারী পুকুরের সংখ্যা ৫৫১৪টি।

জমির মালিকসহ এলাকাবাসীর প্রতিবাদেও বন্ধ হচ্ছে না পুকুর খনন ও মাটি বিক্রি। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রশাসন এসব পুকুর খননকারী সিন্ডিকেটের কাছে পুকুর সংস্কারের অনুমতি দিয়ে মুলত অবৈধ ভাবে পুকুর খননকারীদের সহযোগীতা করছেন প্রশাসন। অপর দিকে এলাকাবাসীর চরম তোপের মুখে স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও সেটি মুলত লোক দেখানো অভিযানেই স্বীমাবদ্ধ বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয়দের তথ্যমতে ফসলী জমিতে চলছে পুকুর খনন। আর এসব পুকুর থেকে মাটি কেটে তা দেদারছে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ইটের ভাটায়। অভিনব কাযদায় বাধাবাহিন ভাবে চলছে অবৈধ ভাবে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির তৎপরতা। পুকুর খননকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা রাজনৈতিক ছত্রছায়াতে কখনো বা নাম ভাঙ্গিয়ে সংস্কারের অনুমতি নিয়ে চালাচ্ছে পুকুর খনন কাজ।

প্রশাসনের এমন ধরনের সংস্কারের অনুমতি প্রদানের ফলে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন মাটি খেকো হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সিন্ডিকেটের সদস্যরা। বিভিন্ন সময় সংবাদ কর্মীসহ জমির মালিকরা তথ্য নিতে গেলে অনুমতির কাগজ দেখিয়ে চড়াও হচ্ছে পুকুর খননকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা। অনেক সময় এসব সিন্ডিকেটের সদস্যদের দ্বারা সংবাদ কর্মীসহ এলাকাবাসী নাজেহাল হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও বন্ধ হয়নি অবৈধ কার্য্যক্রম। জেলার ৯টি উপজেলা গুলোতে এখনও চলছে পুকুর খনন।

ইউএনওর দেয়া সংস্কারের অনুৃমতি নিয়েই অবৈধ ভাবে পুকুরটি খনন করা হচ্ছে। অন্য দিকে পুকুর সংস্কারের অনুমতি নিয়ে রাস্তার ধারেই প্রকাশ্যে পুকুরের মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব মাটি ট্রাক প্রতি বিক্রি করা হচ্ছে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা। প্রতি রাতে একটি পুকুর থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। যা গড়ে ৪ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করছেন মাটি খেকোরা। এসকল মাটি গুলো বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটের ভাটায়।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন ২০২৩ অনুযায়ী এসব অবৈধ পুকুর খনন ও সংস্কারের অনুমতি নিয়ে মাটি অন্যত্র বিক্রি করা আইনগত অস্থিযোগ্য অপরাধ। এমন অপরাধ করলেও দেদারছে চলছে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রি। অপরদিকে এসব মাটি বহনকারী যানবাহনের ওজনের কারনে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তা গুলোর অবস্থা আজ বেহাল দশা। পুকুর খনের ফলে কৃষি জমি হয়ে উঠে অনাবাদি। চারঘাটে মাটি ও মানুষের দাবি এসব পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের করা হোক।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজি শহিদুল আসিলাম বলেন, অবৈধ ভাবে মাটি কাটা ও খনন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রত্যেক উপজেলায় অবৈধ পুুকুর খনন রোধে কঠর ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দওেয়াা আছে।

রাজশাহী-৬ চারঘাট বাঘা আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ বলেন, চারঘাট-বাঘায় কোন ধরণের অন্যায় সহ্য করা হবে না। মাটি কাটার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনকে।

পড়ুন- ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে অভিযোগ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারে: ইইউ নির্বাচন মিশন

দেখুন- ইরানের পক্ষ নিয়ে এবার বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাজ্য!

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন