এক রাতের টানা বৃষ্টি… আর তাতেই সব শেষ! হঠাৎ বাঁধ ভেঙে মুহূর্তেই প্লাবিত পুরো এলাকা—ঘরবাড়ি, ফসল, স্কুল—সবই এখন পানির নিচে। অসহায় মানুষ তাকিয়ে আছে সাহায্যের আশায়।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও জয়চন্ডি ইউনিয়নের লস্করপুর গুগালিছড়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ প্লাবনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে পানির চাপ বেড়ে হঠাৎ করেই বাঁধটি ভেঙে যায়। এতে মুহূর্তেই পানি ঢুকে পড়ে গ্রামগুলোতে। অনেকেই ঘরের মালামাল রক্ষা করতে না পেরে তড়িঘড়ি করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। কৃষকদের বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, “হঠাৎ করে পানি ঢুকে পড়ায় আমরা কিছুই বাঁচাতে পারিনি। ঘরের সব জিনিস পানির নিচে চলে গেছে।”
শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন বিপাকে। এক শিক্ষার্থী জানায়, “স্কুলে যাওয়ার রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে। বই-খাতা নিয়েও খুব সমস্যায় আছি। ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না।”
আরেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পরীক্ষা সামনে, কিন্তু এই অবস্থায় পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা দরকার।”
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের তেমন কোনো উপস্থিতি চোখে পড়ছে না। অনেকেই ক্ষোভ ঝেরে বলেন, “একজন কমিশনার ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন মুঠোফোনে জানান, তিনি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া বৃষ্টি না হলে অতি দ্রুত বাঁধ পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
হঠাৎ বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট এই প্লাবন কুলাউড়ার মানুষের জীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এখন তাদের একটাই দাবি—দ্রুত ত্রাণ ও স্থায়ী সমাধান। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
পড়ুন: মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় বন্যা, আরও ৩ জেলায় বন্যার আশঙ্কা
আর/


