বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে। ডলারের দরপতন ও তেলের দাম কমার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধির শঙ্কায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধাতুটির প্রতি আগ্রহ বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের। খবর রয়টার্স
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্পট গোল্ডের দাম ১.৯ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬৩০.০৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের সেশনে ৩১ মার্চের পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল। তবে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে জুনে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারের দাম ১.৮ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬৪২.৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ডলারের মান শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে যাওয়ার কারণে অন্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের জন্য মার্কিন ডলার-ভিত্তিক স্বর্ণ কেনা আরও সাশ্রয়ী হয়েছে। স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান এ বিষয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা নিশ্চিতভাবেই স্বর্ণের দাম পুনরুদ্ধারে ইন্ধন জোগাচ্ছে। এই মুহূর্তে পুনরুদ্ধারের গতি দেখে মনে হচ্ছে, স্বর্ণের দাম সম্ভবত আপাতত একটি সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছে গেছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। যদিও অনিশ্চয়তার সময় এই ধাতুটিকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবুও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে উসকে দিয়েছে, যা এই সুদ-বিহীন ধাতুর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
তবে কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা এখন বাড়তে শুরু করেছে। উইজডমটরির কমোডিটি স্ট্র্যাটেজিস্ট নিতেশ শাহ বলেন, স্বর্ণ এখন অনেকটা আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করছে। ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির সময় এর দাম বাড়া উচিত এবং স্পষ্টতই সেই ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি হলো—যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী পর্যায়ের সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে, অন্যান্য ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৭৩.৬০ ডলার, প্ল্যাটিনাম ৩.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৪১.৪৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৭৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এই তিনটি ধাতুরই টানা দ্বিতীয় মাসের মতো দরপতন হওয়ার পথে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

