বিজ্ঞাপন

নায়ক থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে থালাপতি বিজয়

ভারতের তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেতে যাচ্ছে অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে)। নায়ক থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে থালাপতি বিজয়। জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়ে পর্দা থেকে বাস্তবের নেতা হয়েছিলেন। এবার নির্বাচনেও প্রমাণ করতে যাচ্ছেন নিজের গ্রহণযোগ্যতা।

সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস সোমবার (৪ মে) জানিয়েছে, বিশ্লেষণী পোর্টাল পিভেলু জানিয়েছে, সর্বশেষ গণনা শেষে দেখা গেছে থালাপতির দল ১৪৫টি আসনে এগিয়ে আছে।

তামিলনাড়ুতে গত ২৩ এপ্রিল ২৩৪টি আসনে নির্বাচন হয়। কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে ১১৮টি আসনে জিততে হবে।

এনডিটিভি অবশ্য জানিয়েছে থালাপতির দল টিভিকে ১০৫টি আসনে এগিয়ে আছে।

টিভিকে এ বছরই প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আর প্রথমবারই বড় চমক দেখিয়েছে তারা।

থালাপতি বিজয়ের আসল নাম চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়। যদিও তার দল টিভিকে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য কাউকে নির্বাচন করেনি। তবে টিভিকে জিতলে থালাপতি বিজয়ই তামিলনাড়ু সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজনীতিতে নামার ঘোষণা দিয়ে বিজয় জানিয়েছিলেন, এটি তার কাছে কোনো শখের কাজ নয় বরং জনগণের সেবা করার একটি ‘মিশন’। অভিনয়ের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে প্রথমবার নির্বাচনী ময়দানে নেমেই তিনি রাজ্যের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন।

বিজয়ের এই আকস্মিক উত্থানকে বিশ্লেষকরা তামিল রাজনীতির একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন। ইশতেহারে তরুণ, নারী ও মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সুবিধার প্রতিশ্রুতি বিজয়ের এই সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

যেভাবে রাজনীতিতে থালাপতি

একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী শুধু নিজের ভোট দিতে দেশে আসেন। নিজের বিমান থেকে নেমে তিনি সোজা ভোটকেন্দ্রে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন, তার ভোট আগেই কেউ দিয়ে দিয়েছে। ভোট না দিতে পারার কারণে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে বিদেশযাত্রা বাতিল করে তিনি নির্বাচন কমিশনে যান এবং পুরো ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে অবস্থান নেন।

গল্পটি ‘সরকার’ সিনেমার। এই সিনেমাটিতে ভোটাধিকার, নির্বাচনী দুর্নীতি এবং জবাবদিহির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিজয়। থালাপতি বিজয়। দক্ষিণ ভারতের এই জনপ্রিয় তারকা দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি সমাজ ও রাজনীতিসংক্রান্ত বিষয়ভিত্তিক গল্পে কাজ করে আসছেন। দুর্নীতি, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষকের সংকট, নারীর অধিকার ও তরুণদের ভবিষ্যৎসহ নানা সামাজিক ইস্যু তার অনেক সিনেমাতে গুরুত্ব পেয়েছে।

বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনায় রয়েছেন তিনি। তার নেতৃত্বাধীন দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় এগিয়ে আছে বলে খবর মিলছে। তিনি পেরাম্বুর ও তিরুচিরাপল্লি ইস্ট-এই দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং দুই আসনেই এগিয়ে থাকার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। অনেকের মতে, বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা হঠাৎ নয়, বরং তার সিনেমার ভাষারই একটি স্বাভাবিক সম্প্রসারণ।

ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকা অবস্থায় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন বিজয়। তিনি তার ৬৯তম সিনেমা ‘জন নায়ক’কে শেষ সিনেমা হিসেবে ঘোষণা দেন। চেন্নাইয়ে এক সমাবেশে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি অভিনেতা হয়েই রাজনীতিতে এসেছেন, কিন্তু রাজনীতিতে অভিনয় করছেন না।

চেন্নাইতে জন্ম নেওয়া বিজয়ের আসল নাম যোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। ভক্তদের কাছে তিনি ‘থালাপতি’ নামেই বেশি পরিচিত। তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখর ছিলেন কলিউডের একজন প্রখ্যাত পরিচালক। বাবার পরিচালনায় তিনি প্রায় ১৫টি সিনেমায় কাজ করেছেন।

১৯৮৫ সালে রজনীকান্তের সঙ্গে ‘নান সিবাপু মনিথন’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেন তিনি। পরবর্তীতে মাত্র ১৮ বছর বয়সে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা তাঁকে তামিল সিনেমার শীর্ষ তারকাদের কাতারে নিয়ে যায়।

এখন প্রশ্ন একটাই, পর্দার সেই প্রভাব বাস্তব রাজনীতিতে কতটা স্থায়ী হয়। ভোটাররা তার প্রতি আস্থা রাখেন কি না, সেটাই আগামী সময়ের বড় পরীক্ষার বিষয়।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে লিখেছেন হাবিবুর রহমান

পড়ুন : প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনে এগিয়ে বিজেপি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন