ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার মাঝেই রাজ্যের নানা প্রান্তে তৃণমূল কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাঁকুড়ার কোতুলপুরে তৃণমূল কার্যালয়ের চালে উঠে বিজেপির পতাকা লাগানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া বরানগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের কার্যালয় দখলের অভিযোগ উঠেছে। জামালপুরে শাসক শিবিরের কার্যালয়ে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে।
জামুড়িয়া বিধানসভার চুরুলিয়া গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করার খবর পাওয়া গেছে। দেয়া হয়েছে আগুনও। তৃণমূলের অভিযোগ বিজেপির দিকে। বীজপুর এবং নোয়াপাড়াতেও তৃণমূলের প্রার্থীরা আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ।
এরপরেই জেলাশাসক, সিপিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
কোতুলপুর বিধানসভার খিরি গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় দখল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। গণনা কেন্দ্রের মধ্যেই তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ-এর গণনা কেন্দ্রে।
সোমবার (৪ মে) সামগ্রিকভাবে, গণনা ঘিরে একাধিক জায়গায় উত্তেজনা ও সহিংসতার অভিযোগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে।
এদিকে, এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘দয়া করে কাউন্টিং এজেন্ট, প্রার্থীরা এলাকা ছেড়ে আসবেন না। এটা বিজেপির প্ল্যান। আমি আগেই বলেছিলাম প্রথম দুই-তিন রাউন্ডে ওদের গুলো আগে দেখাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক জায়গায় কাউন্টিং বন্ধ করে রেখেছে। কল্যাণীতে ৭টা মেশিন পাওয়া গেছে , যেখানে কোনো মিল নেই। এসআইআরে ভোট লুট করেছে। ৭০-১০০টা সিটে আমরা এগিয়ে, সেগুলো প্রকাশ করছে না। মিডিয়ায় মিথ্যা খবর খাওয়াচ্ছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর আন্ডারে কাজ করছে আমাদের পুলিশ।’
ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মমতা বলেছেন, ‘মন খারাপের কারণ নেই, সূর্যাস্তের পর তৃণমূলই জিতবে। ১৪-১৮ রাউন্ডের পরই আপনারা জিতবেন, আমি পাশে আছি, বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করুন।’


